দীপঙ্কর নন্দী: তৃণমূল এবার প্রথম বুথ কমিটি তৈরি করছে।
সারা রাজ্যে বুথ কমিটি হবে। সর্বনিম্ন তিনজন থেকে সর্বাধিক ১৫ জন থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডেই সভাপতি আছেন। ওয়ার্ড কমিটিগুলি নতুন করে তৈরি হবে। জেলা সভাপতিদের নতুন কমিটি গড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাদবপুর ও বেহালা পূর্ব, এই দুই আসনে সংগঠন আরও বেশি শক্তিশালী করতে চায় তৃণমূল। শুধু যাদবপুর ও বেহালা পূর্ব–‌ই নয়, ২০১৬–র বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জেতা সব ক’‌টিতেই জয় ধরে রাখতে চায় দল। বেহালা পূর্ব থেকে ২০১৬–র নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন শোভন চ্যাটার্জি। তিনি সম্পর্ক রেখে চলেছেন বিজেপি–‌র সঙ্গে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকেই প্রার্থী দিতে হবে, তা ধরে নিয়ে সংগঠন গোছানো হচ্ছে।
যাদবপুর থেকে ২০১৬–র নির্বাচনে যাদবপুর থেকে পরাজিত হয়েছিলেন তৃণমূলের মণীশ গুপ্ত। কিছু দিন পর তঁাকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই মণীশবাবুকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তঁাকে। এই জেলার সভাপতি, পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য দেবাশিস কুমার। মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার নেতারা প্রিয়নাথ মল্লিক লেনে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির অফিসে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করেন সুব্রত মুখার্জি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, আবদুল খালেক মোল্লা, মণীশ গুপ্ত, দেবাশিস কুমার, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও বেহালার ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর রত্না শূর। বিশেষ কাজ থাকায় পার্থ চ্যাটার্জি ও ফিরহাদ হাকিম আসতে পারেননি।
সুব্রত মুখার্জি এদিন বৈঠকে বলেন, ‘‌হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ অত্যন্ত জরুরি। তাতে সংগঠনের অনেক কাজ করা যায়। বুথ কমিটি গড়া ভাল উদ্যোগ। আমার বালিগঞ্জ কেন্দ্রে অনেক আবাসন আছে। ভোটের আগে থেকেই তঁাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে আবাসন থেকে কোনও প্রতিনিধি থাকলে সংগঠনের কাজ আরও ভাল হবে।’‌ জাভেদ খান এদিন অভিযোগ করেন, তঁার কসবা বিধানসভায় দু’‌জন ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর সহযোগিতা করছেন না। অনেকেই এদিন বৈঠকে বলেন, মতবিরোধ দূরে সরিয়ে রেখে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে এক হয়ে নামতে হবে। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি ওয়ার্ডে দল পিছিয়ে ছিল। দু–তিনটি বিধানসভাতেও আশানুরূপ ফল হয়নি। কেউ কেউ বলেন, বিধানসভা নির্বাচন লোকসভার মতো হয় না। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনের পর যে–‌ক’‌টি উপনির্বাচন হয়েছে, সবগুলিতেই তৃণমূল জিতেছে। অরূপ বিশ্বাসকে বলা হয়েছে যাদবপুর ও টালিগঞ্জের সংগঠন দেখতে। বিধায়কেরা নিজেদের কেন্দ্রে আরও বেশি সময় দেবেন।

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top