মলয় সিন্‌হা
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোয় লুকিয়ে আছে নানা অজানা ইতিহাস। শহরের ঐতিহ্যও বহন করে চলেছে এইসব পুজো। ঠনঠনিয়ার দত্তবাড়ির দুর্গাপুজো উত্তর কলকাতার তেমনই এক পুজো। ১৮৫৫ সালে দ্বারিকানাথ দত্তের হাত ধরে শুরু হয় এই পুজো। ১৬৬ বছরেও কমেনি পুজোর জৌলুস। বাড়ির ঝুল বারান্দা, ঠাকুর দালান সবেতেই বনেদিয়ানার ছোঁয়া এখনও। দত্ত পরিবার সুবর্ণ বণিক। বণিকদের বাড়ির দুর্গাপুজোয় মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তির বদলে ‘শিব–দুর্গা’র মূর্তির পুজো হয়। এই অসাধারণ প্রতিমাই এই বাড়ির মূল আকর্ষণ। দত্তবাড়ির পুজোর মেয়াদ দশদিন। মহালয়ায় পিতৃপক্ষের শেষ, দেবীপক্ষের শুরু। পরের দিন প্রতিপদে পুজোর বোধন। কিন্তু অতিমারীর প্রকোপ ও মলমাসের কারণে এই পুজোয় এবারে কিছু রদবদল ঘটলেও নিয়মে কোনও খামতি থাকবে না।
ঠনঠনিয়ার কালী মন্দির থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ৩ নং বিধান সরণি। বিশাল বাড়িটিকে সবাই ‘‌দ্বারিকা ভবন’ নামে চেনেন‌। প্রতি বছর ঠাকুর দালানে রাখি পূর্ণিমার দিন কাঠামো পুজোর পর থেকেই উৎসবের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবার ঐতিহ্যে কিছুটা তাল কেটেছে। জানালেন দত্তবাড়ির অন্যতম কনিষ্ঠ–সদস্য সুজিত দত্ত। বললেন, ‘‌বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পী এসে আমাদের বাড়ির ঠাকুর দালানে প্রতিমা গড়েন। এবারে তা হবে না। কুমারটুলির শিল্পীর স্টুডিও–তে চলছে মূর্তি গড়া। প্রতিমার উচ্চতাও কমানো হয়েছে।’‌ বাড়ির আরও এক সদস্য মিলন দত্ত। পেশায় আইনজীবী। জানালেন, ‘মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে আমাদের পুজোর বোধন। এবছর মলমাস হওয়ায় তা একমাস পিছিয়ে গেছে। ‌ষষ্ঠীতে কল্পারম্ভ। সপ্তমীতে চক্ষুদান, সঙ্কল্প। অষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলির পর এবং সন্ধিপুজোর আগে হয় বিশেষ অনুষ্ঠান ‘‌ধুনো পোড়ানো’‌। বাড়ির মহিলারা পরিবারের অন্যদের শুভকামনায় মাথায় বিড়ার ওপর জ্বলন্ত মালসায় ধুনো পোড়ানোতে অংশ নেন। তবে কুমারী মেয়েরা তাতে থাকেন না। ‌নবমীতে পুজো শেষে পুরোহিতকে দক্ষিণা দিয়ে পুজো শেষ হয়। দশমীতে বরণ–সিঁদুর খেলা।’‌ সুজিত দত্ত মনে করিয়ে দেন, ‘‌এবারেও পুজোর চারদিন ধরে পরিবারের সবাই নানা অনুষ্ঠান করবে।’‌ তিনি আরও জানান, ‘প্রতিবার ‌বিসর্জনের সময় বাড়ির সবাই ঠাকুর দালান থেকে কঁাধে করে প্রতিমা বাড়ির গেট পর্যন্ত নিয়ে যান। এবার তা হবে না। লোহার ট্রলিতে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হবে। ‌বাইরের লোকজন যাতে কম আসেন, সেই অনুরোধ করা হবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top