মিল্টন সেন, হুগলি: সঙ্কট কাটেনি, তবে আগের তুলনায় বেশ ভাল রয়েছে পুলকার দুর্ঘটনায় আহত দুই খুদে পড়ুয়া ঋষভ সিং ও দিব্যাংশ ভকত। শনিবার সকালে চোখ খুলে একবার তাকিয়েছিল ঋষভ। রবিবার এই তথ্য জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পড়ুয়ার বাবা, শ্রীরামপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপ্পু সিং। পাপ্পু জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে আগের তুলনায় ভাল রয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। উন্নতি হয়েছে, তবে তা খুবই সামান্য। ঋষভকে এদিন ২ ইউনিট রক্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের তরফে তার শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুনরায় বুকের এক্স–রে করা হয়েছে। এ ছাড়াও হয়েছে শারীরিক নানান ধরনের পরীক্ষাও। রিপোর্ট আসবে রাতে, তারপর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। ঋষভকে সিটিভিএ অর্থাৎ হাসপাতালের কার্ডিয়াক ইউনিটে রাখা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এদিন জল খাওয়ানো হয়েছে ঋষভকে। ওদিকে, হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছে আর এক পড়ুয়া দিব্যাংশ ভকত। তারও সঙ্কট না কাটলেও স্থিতিশীল। আগের তুলনায় বেশ ভাল রয়েছে, শারীরিক অবস্থার কোনও অবনতি হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দু’‌জনেরই শারীরিক অবস্থার কোনও অবনতি হয়নি। ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘটনার পর থেকে টানা দু’‌দিন দুর্ঘটনাগ্রস্ত শিশুর পরিবারের পাশে কলকাতার হাসপাতালেই ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। রবিবার সকালে বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি গেছেন। তবে সেখান থেকেও বারবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। হাসপাতালে গেছেন শ্রীরামপুরের চেয়ারম্যান অমিয় মুখার্জি, বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সুদীপ্ত রায়, প্রবীর ঘোষাল জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।
ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের তরফে যানবাহন চলাচলের ওপর চালানো হচ্ছে করা নজরদারি। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে পুলকারের স্পিড গভর্নরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা ছিল। পুলিশ সুপার তথাগত বসু জানিয়েছেন, মূলত কমার্শিয়াল গাড়িগুলি যাতে খুব জোরে না চলে তাই নতুন অবস্থাতেই গাড়িতে স্পিড গভর্নার লাগানো থাকে। ফলে গাড়ির চালক একটি নির্দিষ্ট গতির ওপর গাড়ি চালাতে পারে না। কিন্তু গাড়িচালকদের অধিকাংশই সেই স্পিড গভর্নরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখেন। এই গাড়ির ক্ষেত্রেও তদন্ত করে সেই তথ্যই উঠে এসেছে। অভিযুক্ত গাড়ির চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তবে পুলিশি জেরায় এক এক সময় এক এক রকমের তথ্য দিয়েছে চালক পবিত্র দাস। প্রথম অবস্থায় চালক জানিয়েছিল, পেছন থেকে তার গাড়িতে ধাক্কা মেরেছিল একটি লরি। ফরেনসিক পরীক্ষায় চালকের দেওয়া সেই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন গাড়ির পেছনে ধাক্কা লাগার তেমন কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। জেলার সমস্ত পুলকার চালকদের নিয়ে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। সেই শিবিরে প্রত্যেক চালককে সাবধানতা অবলম্বন করে গাড়ি চালানোর বিষয়ে বোঝানো হবে। পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, একইসঙ্গে স্কুলগুলির সঙ্গেও কথা বলা হবে। কথা বলা হবে মূলত দূর থেকে আসা গাড়িগুলিকে সময়ের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দেওয়ার বিষয় নিয়ে। কারণ যে গাড়িগুলি দূর থেকে আসে সময়ে পৌঁছনোর জন্যে সেই গাড়ির চালক দ্রুত চালিয়ে তাড়াতাড়ি স্কুলে পৌঁছনোর চেষ্টা করে থাকে। নানান কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সামান্য দেরি হতে পারে তাই সময়ের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দিলে হয়তো এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি জেলা জুড়ে রাস্তায় রুটিং চেকিং চলে তা আগামী দিনে আরও বাড়ানো হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top