‌স্বদেশ ভট্টাচার্য: তিন দশক আগেও কচুয়ার কোনও পরিচিতি ছিল না। লোকনাথ ব্রহ্মচারী বলে কোনও ধর্মগুরু এতখানি পাদপ্রদীপে আসেননি। ১৯৮৯ সালে কচুয়ায় লোকনাথ ব্রহ্মচারীর এখনকার মন্দিরটি নির্মাণ করে ‘‌লোকনাথ মিশন’‌। মিশনের প্রতিষ্ঠা আরও ১১ বছর আগে ১৯৭৮ সালে। লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভাবাদর্শ লোকনাথ মিশনের প্রতিষ্ঠা করেন নিত্যগোপাল সাহা। তঁাকে সবাই ‘‌দাদু’‌ সম্বোধন করতেন। একথাগুলো বলছিলেন লোকনাথ মিশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির অন্যতম সদস্য তপন চ্যাটার্জি।
লোকনাথ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা নিত্যগোপাল সাহা ছিলেন হাওড়া জেলার বাসিন্দা। সালকিয়া ৩৬ নম্বর কলডাঙা রোডে বাড়ি। লোকনাথ মিশনের স্থায়ী ঠিকানা ২৩/‌২, রায়বাগান স্ট্রিট, কলকাতা–‌৬। সেখান থেকেই কচুয়া লোকনাথ মিশনের কর্মপন্থা নিয়ন্ত্রিত হয়। স্থানীয়দের খুব একটা মাথা দেওয়ার সুযোগ নেই মিশনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে। লোকনাথ মিশনের বর্তমান সম্পাদক তুষার বসাক ও সভাপতি বিষ্ণুপদ রায়চৌধুরিকে নিয়ে ১০ জনের একটি কমিটি রয়েছে। তারাই সব কিছু সিদ্ধান্ত নেন। তবে লোকনাথ মিশনের মূল কমিটির গড়ে দেওয়া উৎসব কমিটির সভাপতি প্রহ্লাদ গোয়েঙ্কা। কচুয়া লোকনাথ মন্দিরে ৩ দিনের অনুষ্ঠানের জন্য উৎসব কমিটি গড়া হয়।
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। একসময় চাকলা দাবি করেছিল লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম চাকলায়। কিন্তু আদালতের রায় কচুয়ার পক্ষে যায়। চাকলাতেও একটা বিশাল মন্দির তৈরি হয়। 
শোনা যায়,  চাকলায় মন্দির নির্মাণে সেই সময়ে অর্থলগ্নি সংস্থা ‘‌সঞ্চয়িনী’‌র কর্ণধার ভূদেব সেন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। চাকলা যাওয়ার পরিকাঠামো খুব উন্নত। যদিও কচুয়ায় পরিকাঠামো তেমন উন্নতি হয়নি। মন্দিরের প্রবেশ পথের দু’‌ধারে ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেখানে পঞ্চায়েত কিংবা মন্দির কমিটি কিছু করতে পারে না। প্রতিদিন গড়ে ৪০০–৫০০ পুণ্যার্থী আসেন। দুপুরে আহারের ব্যবস্থা আছে। দূরের পুণ্যার্থীদের রাতে বিশ্রামের ব্যবস্থাও আছে। 
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মতিথি উপলক্ষে কচুয়ায় যে উৎসব হয় তা তিন দশকের বেশি নয়। দিন দিন উৎসবের বহর বাড়ছে। ৩ দিনের অনুষ্ঠান হলে আগে পরে মেলা চলে কয়েক দিনের। নানা সামগ্রীর পসরা নিয়ে দোকান বসে যায় মন্দিরের চারপাশে এক দেড় কিলোমিটার জুড়ে। তবে ওই সব দোকান বসার ক্ষেত্রে মন্দির কমিটি কিংবা পঞ্চায়েতের কোনও ভূমিকা নেই। রাস্তার ধারে যে সব ব্যক্তিগত জায়গা আছে সেখানে তার মালিকরা ভাড়া দিয়ে দোকান বসান। কচুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ফরিদা বিবি, উপপ্রধান সাধন দাস বলেন, ‘‌স্থায়ী দোকানগুলি থেকে পঞ্চায়েতে ট্রেড লাইসেন্স বাবদ কর নিলেও অস্থায়ী দোকানগুলি থেকে পঞ্চায়েতের কোনও রাজস্ব আসে না। দোকানগুলি বসায় ব্যক্তিগত জমির মালিকরা। মন্দির কমিটিও কোনও টাকা নেয় না বলে দাবি করেছেন লোকনাথ মিশন কর্তারা। এমনকী মন্দিরের চৌহদ্দিতে ছোটখাট জিনিস যঁারা বিক্রি করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ তঁাদের কাছ থেকেও কোনও পয়সা নেন না। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top