আজকালের প্রতিবেদন
‘‌আমাদের আশঙ্কা বিজেপি বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি শুরু করতে চাইছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশে যা হচ্ছে সেটা আমাদের পক্ষে চিন্তার। এতদিন রাজনীতি করছি, রাজনীতির মান এত নেমে যেতে কখনও দেখিনি। দেশের মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’‌ মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করে সাংসদ ও দলের মুখপাত্র সৌগত রায় এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যে বিজেপি সরকার চায়। কিছু কিছু রাজ্য আছে, যারা বিজেপি–কে অনুসরণ করছে। এদের মধ্যে অন্ধ্র, ওডিশা রয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশে যেভাবে সরকার গঠন করেছে সেটা কিন্তু বাংলায় হবে না। কেন্দ্রের বিজেপি বাংলার বিজেপি–র অন্তঃকলহে ক্লান্ত ও বিরক্ত। তাই তারা মমতা ব্যানার্জির সমান্তরাল একটি মুখ ঠিক করতে পারেনি। বাইরে থেকে পর্যবেক্ষক নিয়ে এসেছে। এঁদের মধ্যে একজন দিল্লি বিজেপি–র আইটি সেলের প্রধান। ওঁর নাম নিতে চাই না। ফেক নিউজ দিতে ও ভুল খবর ছড়ানোয় তিনি পারদর্শী।’‌
সৌগত বলেন, ‘‌অন্যের সমালোচনার জবাব না দিয়ে মানু্ষের কাছে ইতিবাচক কথা বলার চেষ্টা করছি। কেন্দ্রের বিজেপি ভারতে এক দল, এক শাসক, এক ভাষার ব্যবস্থা করতে চায়। তার বিরুদ্ধে বাংলা উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। সামনেই বাংলার নির্বাচন, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। মমতা ব্যানার্জি একজন নেত্রী, যিনি দেশের সব ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে এক করতে পারেন।’‌ তাঁর অভিযোগ, ‘‌সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন ভারতে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে উঠেছিল, সেগুলো সব ভেঙে পড়ছে। সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই, রাজ্যপাল— সব এই অবনমনের অংশ।’‌
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় প্রসঙ্গে সৌগত বলেন, ‘‌আমরা এ রাজ্যে অনেক রাজ্যপাল দেখেছি। যাঁরা রাজ্যপালের পদের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। এই রাজ্যপাল কেন্দ্রের শাসক দলের মতো কাজ করছেন। রাজ্যপাল নামের পদটির মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থনীতিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব বেড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করেনি। বিজেপি বলছে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করবে। যে গতিতে এগোচ্ছে ২০২৮–এর আগে হবে না। ২০১১ থেকে ২০–এর মধ্যে বাংলায় কৃষকের আয় হয়েছে ৩ গুণ। কেন্দ্রের সরকার জনবিরোধী, শ্রমিকবিরোধী ও কৃষকবিরোধী। তাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে প্রতিবাদ করতে হবে। কোভিডের জন্য ওরা কোনও সাহায্য করল না। ইতিমধ্যে বাংলা ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। রাজ্য খুব অসুবিধার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও মাসের প্রথমে পেনশন ও বেতন দেওয়া হচ্ছে। এই নীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল আরও সোচ্চার হবে। রাজ্যের মানুষ সমর্থন করার জন্য আমাদের পাশে থাকুন।’‌
বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা সম্পর্কে সৌগতর বক্তব্য, আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। ভদ্রলোক। কিন্তু তিনি তো হিমাচলের লোক। উনি বাংলা নিয়ে উপদেশ দেবেন?‌ হিমাচল থেকে এসে আগে বাংলার ব্যাপারটা বুঝুন উনি। হিমাচলের লোকেরা ঠান্ডার সময় পরিযায়ী পাখির মতো অন্য জায়গায় যায়। বিজেপি–র পরিযায়ীরাও এখানে আসছেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পুরকর্মীকে মেরেছিলেন। বাংলা নিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের কোনও ধারণা নেই। উনি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে কী বলবেন?‌ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‌তিনি বলেছেন বাংলা থেকে নাকি ওঁরা ২০০ আসন পাবেন। মোদির ডানহাত, থাকেন আমেদাবাদে। উনি তো বাংলার ম্যাপটা এখনও চিনলেন না। লোকসভা নির্বাচনে বলেছিলেন ২৪টা আসন পাবেন। বিজেপি পায়নি। ওঁকে আমরা কোনও গুরুত্ব দিই না। ভেবেছিলাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বাংলায় এসেছেন। নিরাপত্তা নিয়ে কথাবার্তা বলবেন। ভুল মূর্তিতে মালা দিয়ে গেলেন। এ সব কি কোনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মানায়?‌’‌
সৌগতর পর তৃণমূলের হিন্দি সেলের সভাপতি বিবেক গুপ্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌এখানে বাঙালি, অবাঙালিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে দেব না। গোটা বাংলা জুড়ে আমরা হিন্দি ভাষাভাষী ভাইবোনেদের সঙ্গে কাজ করছি। বিজেপি–র বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে। যেভাবেই হোক বিজেপি–কে বাংলায় আটকাতে হবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top