সঞ্জয় বিশ্বাস
দার্জিলিং, ২৯ অক্টোবর

অর্থনীতির কথা মাথায় রেখেই করোনা সংক্রমণের মধ্যেও পাহাড় পর্যটনের দুয়ার খোলার অনুমতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। হোটেল থেকে হোম–‌‌স্টেগুলিকে দেওয়া হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কঠোর নিদান। হোটেল মালিকরাও পর্যটকদের বিশ্বাস করাতে পেরেছিলেন। তাতেই রক্ষা পেয়েছে পাহাড়। হাউসফুল বলতে যা বোঝায় তেমন পরিস্থিতি এবারে দেখা না গেলেও অন্তত ২০ শতাংশ পর্যটক ছিলেন পুজোর পাহাড়ে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারে অতিমারীর পরিস্থিতিতে পর্যটকরা পাহাড়ি শহরকে এড়িয়ে পাহাড়ি গ্রামের হোম–‌‌স্টেগুলিকে বেছে নিয়েছিলেন। এখনও গ্রামীণ হোম–‌‌স্টেগুলিতে প্রচুর পর্যটক রয়েছেন। এতে গ্রামীণ পর্যটনে নতুন মাত্রা আসতে পারে, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। করোনা ও লকডাউনের জেরে পাহাড় কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে ছিল। জিটিএ–‌‌র তরফে প্রথম দিকে ঘোষণা করা হয়েছিল, পর্যটকরা যাতে সবাই সমতলে নেমে যান। করোনা সংক্রমণ নিয়ে তখন চরম আতঙ্ক পাহাড়জুড়ে। ফলে প্রথম দফায় পাহাড়ে পর্যটনের দরজা খুলে দেওয়ার পরেও পর্যটক উঠতে সাহস করছিলেন না। কিন্তু পাহাড়ের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরাই তৎপর হয়ে পড়েন। নিজেরাই ভাইরাস প্রতিরোধে সমস্ত বন্দোবস্ত করেন। সরকারের কাছে পর্যটন চালু করার অনুমতি চান। সরকার অনুমতি দিতেই পর্যটকরাও ভরসা পান। যার জেরে পুজোর পাহাড়ে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যটক উঠে পড়েন। এখনও তার রেশ চলছে। দার্জিলিং হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজয় খান্না জানান, ‘‌১৫–২০%‌ পর্যটক পুজোয় পাহাড়ে উঠেছেন। তবে বেশিরভাগ হোম–‌‌স্টে‌তে রয়েছেন।’‌ জিটিএ–‌‌র পর্যটন বিভাগের সহ–‌নির্দেশক সুরজ শর্মা জানান, ‘‌১৫ শতাংশের বেশি পর্যটক এসেছেন এটা ঠিক। তাঁরা হোম–‌‌স্টে‌কেই বেছে নিয়েছেন।’‌ হোম–‌‌স্টে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনিল গুরুং জানান, ‘‌শহরকেন্দ্রিক হোম–‌‌স্টেতেও পর্যটক বেশি দেখা যায়নি। সবাই গ্রামীণ হোম-‌স্টে বেছে নিয়েছেন।’‌ তাকদার হোম–‌‌স্টে মালিক নরবু জি লামা জানান, ‘‌হোম–‌‌স্টে যেহেতু নির্জন। অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ নেই। তাই সেই দিকেই মানুষের বেশি চাহিদা দেখা গেছে। এতে পাহাড়ের গ্রামীণ অর্থনীতি কিছুটা হলেও প্রাণ পেয়েছে।’‌ একই বক্তব্য ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএন প্রধানের। তবে দার্জিলিং শহরে যে একেবারেই পর্যটক নেই, তেমন নয়। পুজো থেকে এখন পর্যন্ত কিছু পর্যটকের দেখা মিলছে রোজই।

জনপ্রিয়

Back To Top