গৌতম চক্রবর্তী
বাজারে দেনার টাকা মেটাতেই পরিকল্পনা করে অপহরণ জয়নগরের কিশোরকে। তারপর ব্যবসায়ী পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ দাবি। তবে সেই টাকা পাওয়ার আগেই প্রমাণ লোপাটের জন্য কিশোরকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেয় প্রতিবেশী কলেজপড়ুয়া। তদন্তে নেমে পুলিশ এমনটাই জানতে পেরেছে। মৃত কিশোরের নাম তুষার চক্রবর্তী (১২)। তাকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক মনিরুল শেখ ওরফে ভোলাকে গ্রেপ্তারের পর জেরায় সবটাই স্বীকার করে ওই পড়ুয়া। ‌খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বাড়ির কাছের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে তুষারের দেহ তোলা হতেই জয়নগরের শ্রীপুর পঞ্চায়েতের উত্তরপাড়ার বিশালাক্ষীতলায় শোকের ছায়া। 
তুষার দক্ষিণ বারাসত শিবদাস আচার্য হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। শুক্রবার বিকেল ৩টের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী যুবক ভোলা তাকে টিয়াপাখি ধরে দেওয়ার টোপ দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধে হলেও বাড়ি ফেরেনি। ভোলার বাড়িতেও খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তুষারের খোঁজে সে–ও পরিবারের লোকেদের সঙ্গ দেয়। শনিবার সকালে জয়নগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করে পরিবার। ওই দিন সকাল ৮টা নাগাদ তুষারের দাদার ফোনে হিন্দিতে এসএমএস আসে, এক ঘণ্টার মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সন্ধের পর জানা যায়, ভোলাই আসল খুনি। খুন করে বাড়ির কাছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে তুষারকে পুঁতে দিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে। 
ভোলা খুনি জানাজানি হতেই এলাকার লোকজন তার বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রথমে ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে তুষারকে বেহুঁশ করা হয়। তারপর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। টাকার জন্য যদি এই অপহরণ হয়ে থাকে, তবে টাকা পাওয়ার আগেই কিশোরকে খুন করা হল কেন?‌ উঠছে প্রশ্ন। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top