আজকালের প্রতিবেদন
বাঙালি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে একই বন্ধনীতে ফেললেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার বিজেপি–র রাজ্য দপ্তরে একটি অনুষ্ঠান ছিল। শুক্রবার সেই অনুষ্ঠানে কবিগুরুর তিরোধান দিবস স্মরণ করতে গিয়ে তথ্যগত কিছু ভুল এবং অদলবদল করে ফেললেন দিলীপ ঘোষ। ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘‌কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষাকে গরিমা দিয়েছেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দু’‌জনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সমাবর্তনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের ভারতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যা ইতিহাস।’‌ তথ্য বলছে, ১৯১৯ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাষাকে স্নাতকোত্তর স্তরে পাঠ্য হিসেবে আনেন। সভাপতি করা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। কমলা বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। সমাবর্তনে নয়।
দিলীপ ঘোষ ভাষণে বলেছেন, ‘‌কবিগুরু যৌবনে বলেছেন, মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে। তিনি পৃথিবী ছাড়তে চাইছেন না। পরে উপলব্ধি করেছেন, মৃত্যুকে ভালবেসেছেন। লিখেছেন, মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান।’‌ এরপর দিলীপবাবু কর্মী–সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌বিজেপি–র কর্মী–সমর্থকরাও মৃত্যুকে ভয় পান না। তাঁরাও লড়াই, আন্দোলন করছেন। আমাদের কর্মীরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করছেন।’ অধ্যাপক পবিত্র সরকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‌ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীতে রাধা শ্রীকৃষ্ণকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান। ১৮৮৪ সালের লেখা। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ২৩। ব্রজবুলি ভাষায় ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কবিগুরুর মৌলিক রচনা। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই রাধা এ কথা বলেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ মৃত্যু নিয়ে নিজস্ব ভাবনার কথা বলতে চাননি।
এর ৯ বছর পর ১৮৯৩–তে ‘‌কড়ি ও কোমল’‌ কাব্যগ্রন্থে কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘‌মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে’‌ লাইনটি। সেই লেখার প্রেক্ষিত রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু–‌চেতনা সম্পর্কিত নয়।’‌ 

 

রবীন্দ্রনাথ দুই ভিন্ন বয়সে, ভিন্ন প্রেক্ষিতে দুটি লাইন লিখেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উদ্ধৃত করা সুপ্রযুক্ত নয় বলেই অনেকের ধারণা।
এদিন বিজেপি–র কর্মসূচি ছিল, ‘‌আমার পরিবার বিজেপি পরিবার’‌। এদিন বেশ কয়েকজন বিজেপি–তে যোগদান করেন। লক্ষ্যমাত্রা ধরে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চলবে বলে জানানো হয়েছে। এদিনের ভাষণে রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও করেছেন দিলীপবাবু। বলেছেন, ‘‌কবিগুরু সমান অধিকারের কথা বলেছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন শিক্ষানীতির প্রসঙ্গে সেই কথাই বলছেন।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top