বুদ্ধদেব দাস
মেদিনীপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড় থানার পুলিশ উখলার জঙ্গলে বিশেষ ধরনের যন্ত্র দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে জানতে পারে, মাটির নীচে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। 
এরপর জেসিবি মেশিন নিয়ে গিয়ে মাটি খুঁড়ে প্রচুর বন্দুক, ল্যান্ডমাইন তৈরির সরঞ্জাম, তার, প্রচুর টিফিন কৌটো উদ্ধার হয়। মাটি খুঁড়ে উখলার জঙ্গল থেকে প্রায় ৩০টি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু টিফিন কৌটো ও প্রচুর পরিমাণ তারও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ল্যান্ডমাইন তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। জঙ্গলে আর কোথাও কিছু রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য পুলিশ ওই জঙ্গলে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে। তবে কারা কী কারণে ওই এলাকায় মাটিচাপা দিয়ে বন্দুকগুলি রেখেছিল তা এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ ওই বন্দুক উদ্ধারের পাশাপাশি উখলার জঙ্গল থেকে ল্যান্ডমাইন তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে। অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘‌এই অস্ত্র বাম আমলের হতে পারে, আবার মাওবাদীরাও রাখতে পারে। পুলিশ তদন্ত করছে।’‌ 
উদ্ধার করেছে প্রচুর টিফিন কৌটো। যা মূলত বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। 
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। একসঙ্গে এত বন্দুক কোনওদিন ওই এলাকার মানুষ দেখেননি। তাই ওই বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় গোয়ালতোড় থানার উখলা–‌সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। 
উখলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, একসঙ্গে এত বন্দুক দেখিনি, ভয় করছে। আবার কি মাওবাদীরা ফিরে আসছে। তাঁরা চান না আবার সেই অন্ধকার দিন ফিরে আসুক। কারা কী উদ্দেশ্যে এখানে বন্দুক রেখে দিয়ে গিয়েছিল তা পরিষ্কার নয়। অনেকদিন আগে এই এলাকায় মাওবাদীরা ছিল বলে তাঁরা জানান। তবে সেভাবে মাওবাদীদের আনাগোনা ছিল না। তা সত্ত্বেও কীভাবে উখলার জঙ্গলে মাটি খুঁড়ে এতগুলি বন্দুক, ল্যান্ডমাইন তৈরির সরঞ্জাম, টিফিন কৌটো রাখা হয়েছিল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। 
উদ্ধার হওয়া বন্দুকগুলি কম্বলে মোড়া ছিল। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ৩০টি  বন্দুক ও ল্যান্ডমাইন তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মানুষ।

জনপ্রিয়

Back To Top