দীপঙ্কর নন্দী: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দাপুটে নেতা বিপ্লব মিত্র বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরে আসছেন। তিনি এখন কলকাতায়। আজ, শুক্রবার তৃণমূল ভবনে এসে দলে যোগ দেবেন।
বৃহস্পতিবারই তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তাঁকে নিয়ে দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জির সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ছিল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর মৃত্যুতে সেটি বাতিল হয়।
বিপ্লববাবুকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘‌আমার সঙ্গে আমার ভাই প্রশান্ত মিত্র তৃণমূলে যোগ দেবেন। আমার ভাই গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। জেলায় ফিরে গিয়ে আমি আরও কয়েকজনকে বিজেপি থেকে দলে নিয়ে আসব।’‌
বিজেপি ছাড়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‌আমরা বরাবর দক্ষিণপন্থী রাজনীতি করে এসেছি। বিজেপি–‌তে গিয়ে মানসিকভাবে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিলাম না। কাজ করা যাচ্ছিল না। আমরা তো রাজনীতির লোক। কাজ না করে বসে থাকলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই নিজের দলেই ফিরে এলাম। আমাকে অনেকেই ফিরে আসার জন্য বলছিল। আমি চিন্তাভাবনা করে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিই।’‌
২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন বিপ্লব। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান। ২০১৯–‌এর লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে অর্পিতা ঘোষ হেরে যান। সেই সময় দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতি ছিলেন বিপ্লববাবু। লোকসভা নির্বাচনে তাঁর কাজে দল সন্তুষ্ট হয়নি। তাঁকে জেলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে, অর্পিতাকে জেলা সভাপতি করা হয়। বিপ্লববাবু ও তাঁর ভাই বিজেপি–‌তে চলে যান। জেলাতে তাঁরা কাজ করার খুব একটা সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য বিজেপি–‌তে যোগ দিয়ে ফিরে আসেন ফের তৃণমূলে। সম্প্রতি অর্পিতাকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে গৌতম দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গৌতম, বিপ্লববাবুর ঘনিষ্ঠ অনুগামী বলে পরিচিত।
বিপ্লববাবু এদিন বলেন, ‘‌তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই আমি রয়েছি। সুখ–দুঃখের সাথী। পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে ফের কাজ করতে খুব ইচ্ছে করছিল। রাজ্য নেতাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও রাজ্য নেতারা সব জানান।’‌ দক্ষিণ দিনাজপুরে বিপ্লববাবু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। বাড়ি গঙ্গারামপুরে। ওকালতি করেন বালুরঘাট আদালতে। তবে রাজনীতি করতেই বেশি পছন্দ করেন। কংগ্রেস পরিবারের ছেলে বলে এলাকায় বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top