প্রদীপ দে
বহরমপুর, ১২ জুলাই

গঙ্গার পাড় বাঁধার কাজে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগাল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের দিয়ে ১০০ দিনের প্রকল্পে এ কাজ চলছে। বর্ষার শুরুতেই প্রতি বছরের মতো এবারও গঙ্গার ভাঙন শুরু হয়েছে ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। ফরাক্কা সেতুর ডাউন স্ট্রিমে ভাঙন রোধের কাজ করার কথা কেন্দ্রের ফরাক্কা ব্যারেজ প্রোজেক্টের। কিন্তু এখনও তারা কোনও কাজ করেনি বলে অভিযোগ। সামশেরগঞ্জের চাচণ্ড এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন বসে না থেকে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। 
এলাকায় গঙ্গার পাড় বরাবর ২ কিমি জুড়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতে চলছে মাঠি ফেলার কাজ। স্থানীয়দের দাবি, এতে গ্রামের রাস্তা বেঁচে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হল, লকডাউনে এলাকার যে–‌সব শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরেছে তাদেরকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। নেফাউল শেখ, মোস্তাক শেখ, তৈমুর শেখদের কথায়, ‘‌কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে কোনও কাজ ছিল না। ১০০ দিনের কাজ করছি। কিছু টাকা তো পাচ্ছি। রাজ্যের সরকার কাজ দিচ্ছে। মাসের বেশির ভাগ সময় কাজ পেলে ভিন রাজ্যে আর যাব না। ইচ্ছে করে কেউ কি ঘর সংসার ছেড়ে থাকে।’‌ চাচণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সায়রা বিবিও বলেছেন, ‘‌২০০ দিনের প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের দিয়ে নদীর পাড় বরাবর রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ হচ্ছে। ওরাও টাকা পাচ্ছে, আবার কাজও হচ্ছে।’‌ জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মিনা বলেন, ‘‌লকডাউনে জেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে। তার মধ্যে ১০০ দিনের কাজ উল্লেখযোগ্য। ডোমকলে গ্রামীণ হাট, নবগ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী করছে ড্রাগন ফল চাষ। জঙ্গিপুর মহকুমায় হচ্ছে নদী ভাঙনের কাজ। পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসন মানুষের পাশে আছে।’‌ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোসারফ হোসেনও বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে জেলা জুড়ে লকডাউনের মধ্যেও চলছে একের পর এক কাজ।’‌ ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top