স্বদেশ ভট্টাচার্য: কচুয়ায় লোকনাথ মন্দিরে দুর্ঘটনায় বিহ্বল স্থানীয় মানুষ। এলাকার বাসিন্দারা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না বিভীষিকার সেই রাত। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর আতঙ্ক কাটছে না মন্দির কমিটি ও এলাকার বাসিন্দাদের। দু’‌দিনের ভিড় একদিনে, তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাতেই বিপত্তি। ৫ জনের প্রাণ গেছে পদপিষ্ট হয়ে। আহত অনেকে। 
লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মতিথি উপলক্ষে ৩ দিনের অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্যে ২ দিন বঁাকে করে গঙ্গাবারি নিয়ে ভক্তরা মন্দিরে পুণ্যস্নান করাতে আসেন। এবার প্রথম দিনে সিকিভাগ ভক্তও আসেননি। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার  দু’‌দিনের ভিড় একদিনে হয়। ফলে, লোকের চাপ এত বেশি আগে কোনওবার হয়নি। তার ওপর‌ প্রবল বর্ষণের ফলে রাস্তায় আটকে ছিলেন বহু মানুষ। বৃষ্টি থামলে পুরো ভিড় একসঙ্গে আছড়ে পড়ে কচুয়া মন্দিরের গেটে। মন্দিরে ঢোকার পথ সঙ্কীর্ণ। একদিকে পাঁচিল। অন্যদিকে পুকুর। পুকুর পাড়ে মাচা বেঁধে দোকানের পসরা। ভিড়ে ঠাসা রাস্তার ওপর মুখার্জি বাড়ির পাঁচিল ভেঙে পড়ে হুড়মুড়িয়ে। 
ভয়ে মানুষের ঢল উল্টোদিকে চাপ দেয়। দোকানের পাটাতন ভার বহন করতে না পেরে পুকুরে ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে। পুকুর জলে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়ে পড়ে। তাতে অনেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে পুলিশের অনুমান। শনিবারও গিয়ে দেখা গেল পুকুরের বহু মাছ মরে ভাসছে। 
লোকনাথ মিশনের উৎসব কমিটির সহ–‌সভাপতি অলক দত্ত বলেন, ‘‌আমরা অনেকবার পঞ্চায়েতকে বলেছি পুকুরের পাশে গার্ডওয়াল করতে। কিন্তু পঞ্চায়েত করেনি। মন্দিরের এলাকায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। যা হয়েছে রাস্তায়।’‌ উৎসবের স্বেচ্ছাসেবক কমিটির সম্পাদক ভোলানাথ বিশ্বাস বলেন, ‘‌উৎসব উপলক্ষে ৪৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিল। স্বেচ্ছাসেবকরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেছে। কিন্তু বৃষ্টির ফলে পাঁচিল না ভাঙলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না।’‌ কচুয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ফরিদা বিবি বলেন, ‘‌পঞ্চায়েত থেকে মন্দিরের ভেতরে পাকা রাস্তা, পানীয় জল, সবই হয়েছে। আগে তো পঞ্চায়েত এক গাড়ি বালি ফেলে দায় সারত। এখন পঞ্চায়েত প্রশাসনের নির্দেশ মতো সহযোগিতা করে।’‌ এলাকার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বরূপ মণ্ডল বলেন, ‘‌দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে কথা উঠছে। ব্যক্তিগত পাঁচিল ভেঙেছে। পুকুরটাও ব্যক্তি মালিকানার। ফলে, সেখানে পঞ্চায়েত কী করে কাজ করবে। তবু আমরা মন্দিরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিই। সাংসদ তহবিলের টাকায় উচ্চ আলোকস্তম্ভ বসেছে।’‌
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কচুয়ায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত অপর্ণা সরকারের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের 
অর্থের চেক পৌঁছে গেল এদিনই। স্বরূপনগরের দত্তপাড়ায় মৃত অপর্ণাদেবীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বামী ও ছেলের হাতে চেক তুলে দেন উত্তর ২৪ পরগনার সভাধিপতি, বিধায়ক বীণা মণ্ডল। লোকনাথ মিশনের পক্ষ থেকেও মৃতদের পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top