প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায় 
এ যেন স্বপ্নকেও হার মানানোর গল্প। দোকানে দোকানে দুধের প্যাকেট বিলি করে কোনওরকমে দিন গুজরান করতেন ডোমজুড়ের উত্তর ঝাপড়দহ গ্রামের শক্তি দাস। অভাবের সংসারে লকডাউনে নেমে এসেছিল তীব্র অনটন। দুধের প্যাকেট সরবরাহ করে মাসে ৫–৬ হাজারের বেশি আয় হত না। শেষ পর্যন্ত বছর চল্লিশের সেই শক্তি দাস লটারিতে প্রথম পুরস্কার জিতে পেলেন ১ কোটি টাকা। শনিবার এলাকারই এক লটারির দোকান থেকে রাজ্য সরকারের ডিয়ার লটারির ৫টা টিকিট ৩০ টাকা দিয়ে কেটেছিলেন। ৫টা টিকিটের একটি সিরিজ কেটেছিলেন তিনি। সেদিনই ছিল খেলা। ওইদিন আর কোনও খোঁজ নেননি। তবে পরের দিন সেই দোকানে গিয়ে টিকিট মেলাতে গিয়ে তাজ্জব হয়ে যান শক্তি। নিজের চোখকেও তখন যেন তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে তাঁর কাছে একটি লটারির টিকিটের নম্বর। তখনই তিনি বুঝতে পারেন প্রথম পুরস্কার জিতে ১ কোটি টাকা পেয়েছেন তিনি। আনন্দে কার্যত হতবাক হয়ে পড়েন অত্যন্ত গরিব পরিবারের এই মানুষটি। তিনি বলেন ‘একসঙ্গে ১ লাখ টাকা কোনওদিন চোখে দেখিনি। সেই আমি কিনা ১ কোটি টাকা জিতে গেলাম। তারপর থেকেই কেমন যেন ঘোরের মতো লাগছে। পুরো বিষয়টাই এখনও স্বপ্ন মনে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে লটারির টিকিট কাটতাম। তবে কোনওদিন প্রথম পুরস্কার জিতে ১ কোটি টাকা পাব কল্পনা করিনি।’ দুই এক দিনের মধ্যেই এই টাকা তাঁর অ্যাকাউণ্টে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। নিয়ম মেনে টাকা কেটে পুরো টাকাটাই তাঁর অ্যাকাউণ্টে আসবে। এই টাকা নিয়ে কী করবেন তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি তিনি। তবে এই টাকায় একটা মনের মতো বাড়ি তৈরি করতে চান তিনি। সেই সঙ্গে বৃদ্ধা মা ছবিরানী দাস–‌সহ বাড়ির সবাইকে ভালভাবে দেখাশোনা করতে চান। তবে মা ছবিরানী বলেন, ‘এবার ছেলের একটি বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাই।’ তখন শক্তির মুখে লাজুক হাসি। তবে তিনি জোর দিয়ে বললেন, ‘যাই হোক দোকানে দোকানে দুধের প্যাকেট সরবরাহ করা সেলসম্যানের কাজটা কিন্তু ছাড়ছি না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top