আজকালের প্রতিবেদন
মেডিক্যালে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট দিতে এসে রবিবার ভোগান্তিতে পড়ত হল বহু পড়ুয়াকে। ট্রেন চলছে না। এমন পরিস্থিতিতে দূরদূরান্ত থেকে আসতে মোটা অঙ্কের ভাড়া গুনতে হল অনেককেই। মালদা থেকে দুই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন কলকাতায়। যাতায়াতের গাড়িভাড়া বাবদ তাঁদের গুনতে হয়েছে ১১ হাজার টাকা!‌ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি এ নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে দোষারোপ করে বলেছেন, ‘পরীক্ষার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে আসবে বলে ‌রাজ্য সরকার লকডাউন প্রত্যাহার করেছে। যতটা পেরেছে ততটা সহায়তা করেছে। কিন্তু তাতে পরীক্ষার্থীদের হয়রানি কমেনি। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, এরকম হতে পারে।’‌ উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরীক্ষা পিছনোর জন্য কেন্দ্রকে বলেছিল। আরও কয়েকটি রাজ্যও একই প্রস্তাব দিয়েছিল।
মালদার কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে কলকাতায় আসার জন্য ৪০ হাজার টাকায় বাস ভাড়া করতে হয়। তাঁরা শুক্রবার রওনা হয়েছিলেন। রায়গঞ্জের এক পড়ুয়াকে হাওড়ায় আসতে গাড়িভাড়া বাবদ দিতে হয় ১৭ হাজার টাকা!‌ বিহার থেকে বিধাননগরের এপিজে স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন সন্তোষ পান্ডে। রওনা হয়েছিলেন শুক্রবার রাতে। বাসে দীর্ঘপথ যাত্রা করে বিহারের কয়েক জায়গায় যানজট অতিক্রম করে রবিবার কেন্দ্রে যখন উপস্থিত হলেন তখন পরীক্ষা শুরু হতে ১৫ মিনিট বাকি। নিয়ম ছিল অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছতে হবে। ফলে তাঁকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।
নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য রবিবার বিশেষ মেট্রো পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত সরকারি বাসের ব্যবস্থা রেখেছিল। ছিল প্রচুর বেসরকারি বাস, ট্যাক্সি, ক্যাব, অটোও। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ, প্রশাসনের তরফে সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। হাওড়ায় ব্যাঁটরা থানার পক্ষে কদমতলার পাওয়ার হাউস মোড়ে সহায়তা বুথ থেকে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয় মাস্ক, স্যানিটাইজার, গোলাপ ফুল, লজেন্স। পরীক্ষার শেষে জলের বোতল, মিষ্টি।

জনপ্রিয়

Back To Top