দীপঙ্কর নন্দী, রিনা ভট্টাচার্য
বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত কন্যাশ্রী প্রকল্পকে এবার প্রচারের সামনে রাখছে তৃণমূল। এত দিন তৃণমূল সরকার কী কাজ  করেছে, তার একটি তালিকা তৈরি করে দল আগামী নির্বাচনের প্রচারে নামতে চলেছে। সেই প্রচারে সামনে থাকছে কন্যাশ্রী প্রকল্প।
২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই প্রকল্প চালু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নারীদের অগ্রগতির জন্য এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত কন্যাশ্রী। কন্যাশ্রী প্রকল্পের কন্যারা আজ অনন্যা। নারীশিক্ষা প্রসারের জন্য এই প্রকল্প। কন্যাশ্রী প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৬৭ লক্ষ কন্যা শক্তিশালী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শুক্রবার কন্যাশ্রী দিবস উপলক্ষে টুইট করে জানিয়েছেন, ‘‌২০১৩ সালে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কন্যাশ্রী। নারী আমাদের দেশের সম্পদ। তঁাদের জন্য আমরা গর্বিত।’‌
করোনা–‌পরিস্থিতিতে অন্যান্য বারের মতো খুব বড় করে কন্যাশ্রী দিবস উদ্‌যাপিত করা যায়নি। তবু এদিন ছোট করে, সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে সব জেলাতেই দিনটি পালিত হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানটি হয় রবীন্দ্র সদনে। নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে মন্ত্রী শশী পঁাজা কলকাতার ৬টি স্কুল ও কলেজকে পুরস্কৃত করেন। 

এই স্কুলগুলি কন্যাশ্রী প্রকল্পে সবচেয়ে ভাল কাজ করেছে। এই স্কুল–‌কলেজগুলি হল:‌ খানপুর নির্মলাবালা সরকার গার্লস হাই স্কুল, গার্ডেনরিচ নাটাবিহারী গার্লস হাই স্কুল, জজ আবদুল বারি গার্লস হাই স্কুল, শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজ, বেথুন কলেজ ও বেহালা কলেজ। এ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাল কাজের জন্য ৪৬ জন কন্যাশ্রীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। মন্ত্রী শশী পঁাজা ছাড়াও এদিন ছিলেন দপ্তরের সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী।
মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল মেয়েদের স্কুলছুট বন্ধ করা, বাল্যবিবাহ রোধ করা, নারীশিক্ষা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশ্ববন্দিত তঁার এই প্রকল্প। কোভিড রুখতেও এগিয়ে এসেছেন কন্যাশ্রী–‌র কন্যারা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া নিয়ে সচেতনতার কাজেও এগিয়ে এসেছে কন্যাশ্রীরা। বাল্যবিবাহ–‌মুক্ত বাংলা গড়ার শপথ নিয়েছে। সমাজের এই অভিশাপ দূর করায় ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ১৩ থেকে ১৮ বছরের কন্যারা পড়াশোনা করার জন্য প্রতি বছর হাজার টাকা করে পায়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে ২৫ হাজার এককালীন অনুদান দেওয়া হয়। ৭ বছর ধরে ১৪ আগস্ট কন্যাশ্রী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ ছাড়া পড়াশোনার বাইরে বিভিন্ন কাজে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ‘‌স্বপ্নভোর’‌ নামে প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। রাজ্যের আরও বেশি কন্যাকে এই প্রকল্পে যুক্ত করার জন্য জেলায় জেলায় ট্যাবলো নিয়ে ঘোরার উদ্যোগ নিয়েছে নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর।

জনপ্রিয়

Back To Top