দীপঙ্কর নন্দী
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কতটা ‘‌মমতাময়ী’‌ আরও একবার প্রমাণ হল। প্রমাণ হল, তিনি পারেন একাকী মানুষের মন ভাল করে দিতে। তিনিই পারেন, পার্থিব কোনও কিছু পাওয়ার আশা না করে মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে।
তবে নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে যে প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন, এতে কোনও সন্দেহ নেই। শুধু নবনীড় নয়, সোমবারের ঘটনা এক নতুন বার্তাকে সূচিত করল। একাকী মানুষকে ভালবাসার বার্তা।
নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা প্রতিবছর পুজোর সময় পথে বেরিয়ে পুজো দেখেন। একাকী মনে জ্বলে ওঠে আলো। প্রতিমা, মণ্ডপ, সাজসজ্জা দেখে মনে করেন, বয়স হয়ে গিয়েছে বলে তঁারা যে আলাদা, তঁারা যে বাতিল মোটেও এমন নয়। তঁারাও এই ঝলমলে উৎসবের একজন। কঁাপা হাতে তঁারাও আনন্দকে স্পর্শ করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। করোনার কারণে তাঁরা যে পথে বেরোতে পারবেন না। কে এই ঝঁুকি নেবে?‌ স্বাভাবিক ভাবেই উৎসব থেকে থাকতে হবে দূরে। আবাসিকদের মন খারাপ। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে ম্যাজিকের মতো সেই ‘‌মন খারাপ’‌ মুছে দিলেন। আবাসিকরা উৎসবের কাছে যেতে পারবেন না বলে, এবার উৎসব আসছে তঁাদের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেতে নবনীড়ে  দুর্গাপুজো হচ্ছে। এই প্রথম।
এদিন নবনীড়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। করোনা রয়েছে। এই বয়সে আপনাদের কাউকে প্রতিমা দর্শন করতে বাইরে যেতে হবে না। রোগটা ভয়ঙ্কর। সব বয়সের মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আপনারা যাতে পুজোয় আনন্দ করে কাটাতে পারেন, তার জন্য বৃদ্ধাশ্রমের ভেতরেই প্রতিমা আনার ব্যবস্থা করব।’‌

 

মুখ্যমন্ত্রী পুর প্রশাসক মণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিমকে বলেন, ‘‌২ দিনের মধ্যেই এখানে প্রতিমা আনতে হবে। পুজো হবে। ওনারা আনন্দ উপভোগ করবেন। একাকিত্ব কাটবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌আপনারা খুব সতর্ক থাকবেন। মাস্ক পরবেন। স্যানিটাইজ করবেন। সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। এই বয়সে আপনাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’‌ বৃদ্ধাশ্রমের ভেতর পুজো হবে শুনে সবাই খুব খুশি হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌করোনায় আমরা অনেককে হারিয়েছি। আর যেন কাউকে হারাতে না হয়। করোনাকে যেভাবেই হোক রুখতে হবে। পাশাপাশি উৎসবও করতে হবে। উৎসবের সময়ে এমনকিছু করা ঠিক হবে না, যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত হয়ে যায়। প্রতিমা দেখে আপনাদের ৪ দিন সময় কেটে যাবে।’‌
বৃদ্ধাশ্রমে এদিন অনেক আবাসিক বলেছেন, ‘‌আমরা উপোস করে অঞ্জলি দেব। সন্ধ্যা আরতি দেখব। অষ্টমীতে ভোগ হবে। সন্ধিপুজো অনেকদিন পর দেখব।’‌
চেতলার নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবছরই পুজোর আগে যান মুখ্যমন্ত্রী। হলঘরে বসেন। গান হয়। আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পুজোর উপহার তুলে দেন।
এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। হলে ঢোকেননি। দোতলা, তিনতলা থেকে কেউ নীচে হলঘরে এসে বসেননি। সকলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছেন। নবনীড়ের বড় উঠোনে চেয়ারে বসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মাইক্রোফোনে কথা বলেন।  পাশে ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ‘‌জয় মা দুর্গা’‌ ও ‘‌এ মাটি এমন মাটি’‌ মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ২টি গান তিনি পরিবেশন করেন। ওপর থেকে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন আবাসিকরা। বিধিনিষেধ মেনেই, এদিন কর্মসূচি পালন করা হয়।
নবনীড়ের আবাসিকরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর বাড়ির কালীপুজোয় প্রতি বছর এঁদের নিয়ে যান ফিরহাদ হাকিম। 

জনপ্রিয়

Back To Top