আজকালের প্রতিবেদন‌‌‌‌: রাজ্যের উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গত ৮ বছরে সর্বস্তরে মানুষের জীবনধারণের মানকে উন্নত করতে অজস্র জনমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে তৃণমূল সরকার। এবারে তাকেই নতুন পরিকল্পনা ও ভাবনায় আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মমতা ঘোষণা করেছেন, ‘‌ভিশন টেন, ভিশন টোয়েন্টি’‌ তৈরি করছে রাজ্য সরকার। এদিন আলিপুরে ‘‌সৌজন্য’‌ ভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। তিনি বলেছেন, ‘‌আমরা বৈঠকে ২০২০ সাল থেকে ৩০ এবং ২০৩০ থেকে ৪০ সাল পর্যন্ত ১০ এবং ২০ বছরের ভিশন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থ দপ্তর এবং পরিসংখ্যান দপ্তর মিলে এই ভিশনের রূপরেখা তৈরি করবে।’‌  
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে শাসন ক্ষমতায় আসে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার। গত ৮ বছরে সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প কার্যকর করায় তার সুফল মেলে শেষ বিধানসভা নির্বাচনেও। পরপর দু’‌বার নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে মমতাও উন্নয়নের নিরিখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত এক সূত্রে গেঁথে দিল মমতার উন্নয়নমুখী ভাবনাকেই। মমতা আরও বলেছেন, ‘‌পরিকল্পনা করে না এগোলে কোনও ভাল কাজই করা যায় না।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌যেমন এই ব্রিজগুলো সব ভেঙে পড়ছে। আমরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছি বলেই জনতে পারছি। কিন্তু ৫০টা ব্রিজ একসঙ্গে বন্ধ করে তো সারাতে পারব না। আসতে আসতে কাজ করতে হবে। না হলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বেন। যেমন টালা ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের খুব অসুবিধা হচ্ছে আমি জানি।’‌ মমতার কথায়, ‘‌২০০৯ সালে রেলের দায়িত্বে আমি যখন ছিলাম, তখন ২০২০ পর্যন্ত ‘‌‌ভিশন’‌ তৈরি করেছিলাম। সেই পরিকল্পনা থেকেই এতদিন পর্যন্ত সব উন্নয়ন হয়েছে। শুধু বেসরকারীকরণ ছাড়া। ওটা আমার পরিকল্পনায় ছিল না।’‌
এদিকে, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প কার্যকর করতে গিয়ে রাজ্য কোষাগারেও যে টান পড়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। তা সত্ত্বেও জনকল্যাণমুখী কাজ বাধা পায়নি। মমতাও এদিন তাই বলেছেন, ‘‌এত দেনা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন থেমে যায়নি।’‌ তিনি জানান, ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত এই ৮ বছরে রাজ্যে কতটা উন্নয়ন হয়েছে তা নিয়ে ছোট্ট একটা বই প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত কীভাবে উত্তরণ ঘটেছে, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে‌।’ যেমন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যে পরিকল্পনা ব্যয় ছিল ১১,৮৩৭ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭১,৮১৩ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ও ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫,৩৪১ কোটি টাকা। ২০১০–‌১১ অর্থবর্ষে শিক্ষা পরিকল্পনায় বাজেট বরাদ্দ ছিল ৮২৯ কোটি টাকা। তৃণমূল সরকারের আমলে তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। তেমনই স্বাস্থ্য, উচ্চশিক্ষা, ১০০ দিনের কাজ, রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন— সর্বক্ষেত্রে রেখচিত্রে অগ্রগতি ঘটেছে। মমতার সবচেয়ে বড় সাফল্য ‘‌কন্যাশ্রী’‌ প্রকল্প, যা সারা বিশ্ব কুর্নিশ জানিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকেও ২০১৭ সালে পুরস্কার নিয়ে এসেছে কন্যাশ্রী। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে এই কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয় গোটা রাজ্যে, যা আজ ইতিহাস। এছাড়াও খাদ্যসাথী, নির্মল বাংলা, কৃষি, ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান ইত্যাদি প্রকল্পও রাজ্যের উন্নয়নে মুকুট পরিয়েছে বহু আগেই। স্বভাবতই রাজ্য সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবনায় আগামী ২০ বছরের জন্য যে ‘‌ভিশন’‌ তৈরি করা হল, তা গোটা দেশেই নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ভাবনা। এবং নজিরবিহীনও।

জনপ্রিয়

Back To Top