KMC: শহরের বহুতলে স্পট মিউটেশন শুরু করবে কলকাতা পুরসভা

কাকলি মুখোপাধ্যায়:‌ শহরের বহুতল আবাসনে ক্যাম্প করে স্পট মিউটেশন করবে কলকাতা পুরসভা।

২৯ এপ্রিল কলকাতার সবথেকে বড় বহুতল চৌরঙ্গি রোডের ‘‌দ্য ‌৪২’‌ আবাসনে ক্যাম্প করবে পুরসভা। 
পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বড় বড় নামীদামি বহুতলে মিউটেশন না হওয়ায় সম্পত্তি কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সেই বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ বিশাল। তাই স্পট মিউটেশন করে সম্পত্তিকে করের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে পুর প্রশাসন। দ্য ৪২ বহুতলটি জি +‌৬১। ওখানে ৬৫টি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এই বিশাল সম্পত্তির সময়মতো মিউটেশন হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বকেয়া থেকে গেছে। শহরে এরকম আরও কিছু নতুন এবং পুরনো বহুতল রয়েছে, যেগুলো মিউটেশন না হওয়ায় সম্পত্তি করের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। কিন্তু পুর পরিষেবা নিয়ে চলেছে। তাই এই উদ্যোগ পুরসভার।
পুর আধিকারিকের কথায়, ‘‌টক টু মেয়র’‌ অনুষ্ঠান শুরুর পর অনেক বহুতলবাসী মহানাগরিককে মিউটেশন না হওয়া নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে ফোন করেন। জুলাই–‌আগস্ট মাসে কয়েকটি আবাসনে ক্যাম্প করা হয়। সেখানকার বাসিন্দারা নিজেদের আবাসনেই মিউটেশন করিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু সংক্রমণ বাড়ার জন্য করোনা বিধিনিষেধ কার্যকর হয়ে যায়। তাই বন্ধ রাখা হয় স্পট মিউটেশন। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকে। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই পুর কর্তৃপক্ষ আবাসনে স্পট মিউটেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুরসভার লক্ষ্য শহরের বড় বড় আবাসন যেখানে মিউটেশন এখনও হয়নি, সেখানে প্রতি মাসে ১০–১২টি ক্যাম্প করার। 
 কর আদায়ে বকেয়া থাকা সম্পত্তির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সেইসব জায়গায় বকেয়া আদায়ে নোটিস পাঠানো হয়। তিনবার নোটিসের পরও কোনও সাড়া না পেলে সেই সম্পত্তির গায়ে বকেয়া সম্পত্তি করের বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাতে বেশ কিছুটা সাড়া মিলেছে। অনেকেই পুরসভায় এসে ধাপে ধাপে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এবং বকেয়ার ৫০ শতাংশ মিটিয়েও দেন। ২০২১–২২ আর্থিক বর্ষে সম্পত্তি কর খাতে প্রায় ৮৮৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে পুরসভা।
 সম্পত্তি কর বকেয়া থাকার জন্য দুটি সম্পত্তি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর প্রশাসন। এই দুটি সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রাউডন স্ট্রিটের একটি হোটেল এবং মধ্য কলকাতার রাজভবনের কাছে একটি বাণিজ্যিক ভবন। হোটেলটির বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ভবনটিতে বকেয়া রয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। পুরসভা থেকে নিয়ম মেনে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। তাই এই পদক্ষেপ পুর প্রশাসনের। স্পট মিউটেশন ক্যাম্পে সম্পত্তি কর দেওয়ার ব্যবস্থা রাখারও পরিকল্পনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন:‌ লন্ডন সফর বাতিল করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য, যাচ্ছেন না শিক্ষাসচিবও 


 

আকর্ষণীয় খবর