আজকালের প্রতিবেদন‌‌‌‌‌‌‌‌: দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। দু–একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮২.‌৭৬ শতাংশ। দার্জিলিঙে ৭২.‌১৪ শতাংশ। রায়গঞ্জে ৭২.‌৩১ শতাংশ। গড় ভোটের হার ৭৬.‌০৭ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসেব এলে আরও বাড়বে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ড.‌ আরিজ আফতাব বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন এডিজি (‌আইনশৃঙ্খলা)‌ সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ওঙ্কার সিং মিনা, সঞ্জয় বসু এবং উপ নির্বাচনী আধিকারিক অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্য। 
সকালেই বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় ভি নায়েক নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে চলে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের চেষ্টা করেছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটই হয়েছে।’‌ চোপড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‌সেখানকার পুলিশ পর্যবেক্ষক একটি রিপোর্ট করেছিলেন। ১৫০ জন ভোটারকে পুলিশের নিরাপত্তা দিয়ে বুথে নিয়ে যাওয়া হয়।’‌ তবে ভোট যেভাবে হয়েছে তা নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ড.‌ আরিজ আফতাবও চোপড়ার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‌সেখানে রাস্তা অবরোধ করা হয়। পুলিশ আহত হয়েছে। চোপড়ার ১১২ নম্বর বুথে ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। কালিম্পঙে প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হরকাবাহাদুর ছেত্রি বুথে ফোন নিয়ে ঢুকেছিলেন। এফআইআর করা হয়েছে।‌ এছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।’‌
এডিজি (‌আইনশৃঙ্খলা)‌ জানিয়েছেন, ‘‌সাংবাদিকের ওপর আক্রমণের ঘটনায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। ৫ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরে ২টি এবং কালিম্পঙের ১টি ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেলাকোবায় একজন বনদপ্তরের রেঞ্জার সার্ভিস রিভলভার নিয়ে বুথে ঢুকেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন।’‌ এডিজি জানান, ‘‌চোপড়ায় কোনও গুলি চলেনি। কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৫৬টি অভিযোগ এসেছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বুথে যে ওয়েবকাস্টিং হয়েছে সেগুলি দিল্লির নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের নির্বাচন দপ্তর দেখেছে। মিডিয়া ওয়াচ সেল টিভি–‌র সমস্ত খবরে নজর রেখেছিল।’‌
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষের বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, ‘‌রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন বুথের তালিকা দিয়েছিল। তার ওপর ভিত্তি করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পর্যবেক্ষকরা আলোচনা করে ঠিক করেছিলেন কোন বুথে কোন বাহিনী থাকবে।’‌ পুরুলিয়ায় এক ব্যক্তিকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‌তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।’‌
এদিন নির্বাচন কমিশন দপ্তরে বিজেপি, কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। রায়গঞ্জের বামপ্রার্থী মহম্মদ সেলিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে সামনে অবস্থান–বিক্ষোভ শুরু করেন বামফ্রন্ট নেতারা। তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। বাম প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, শমীক লাহিড়ী, আরএসপি–‌র মনোজ ভট্টাচার্য, আরসিপিআইয়ের মিহির বাইন প্রমুখ। সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌মহম্মদ সেলিমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বামফ্রন্টের ৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। প্রার্থীদের নিরাপত্তা যেখানে নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে থাকবে?‌ রায়গঞ্জের ২২টি এবং ইসলামপুরের ৮টি বুথের কথা কমিশনকে জানিয়েছি।’‌ সাংবাদিকরা জানান, বিশেষ পর্যবেক্ষক বলেছেন অবাধ ভোট হয়েছে। সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘‌উনি কী বলেছেন জানি না, আমরা আমাদের বক্তব্য জানিয়ে গেলাম। এখনও বেশ কিছু দফার ভোট বাকি। যদি কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা না নেওয়া হয় আমরা বাধ্য হব বড় আন্দোলনে যেতে।’‌ কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য রায়গঞ্জ, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন ঘটনার কথা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানান।
বিজেপি–‌র প্রতিনিধিরা বিশেষ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাঁরা বলেন, ‘‌প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা কম।’‌ তাঁদের অভিযোগ, পুরুলিয়ার আড়শা গ্রামে একজনকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বাবা বিজেপি–‌র পঞ্চায়েত সদস্য। চোপড়াতে গোলমাল হয়েছে। আমরা বার বার বলছি প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে হবে। ‌‌

নিস্তরঙ্গ। দার্জিলিঙের রোহিণীতে। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top