গৌতম মণ্ডল ও গৌতম চক্রবর্তী, কাকদ্বীপ ও গোসাবা: আমফানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সুন্দরবনের পাশাপাশি গোটা জেলায় তাণ্ডবের চিহ্ন স্পষ্ট। বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা তিন। জেলার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর। সুন্দরবনের কাকদ্বীপ, সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিং ও কুলতলিতে ধ্বংসের ছবি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাগর ও পাথরপ্রতিমা। এই দুটি ব্লকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল রাজ্যে সর্বোচ্চ। লক্ষাধিক বাড়ির টিন, অ্যাসবেস্টস ও খড়ের চাল প্রায় নেই। প্রচুর গাছ ভেঙেছে বা উপড়েছে। নদী ও সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত একাধিক গ্রাম। বাঁধ ভেঙে নোনা জল ঢুকে জলবন্দি বহু মানুষ। পুকুরে নোনা জল ঢোকায় মাছ মরে ভেসে উঠেছে। পানের বরজের ৯০ শতাংশ ধূলিসাৎ। কয়েক হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়েছে। ভেঙেছে ট্রান্সফর্মারও। বুধবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎহীন গোটা জেলা। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের কর্মীরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। কাকদ্বীপ, ক্যানিংয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ। সাগরের কচুবেড়িয়া, নামখানার হাতানিয়া–দোয়ানিয়া নদীর জেটি–সহ একাধিক জেটি ভেঙে পড়েছে। ডায়মন্ড হারবারে হুগলি নদীতে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পুরনো জেটি পল্টন থেকে বিচ্ছিন্ন। সোমবার থেকে জেলাশাসক পি উলগানাথন কাকদ্বীপে। এদিন তিনি কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন, সব ব্লকের খোঁজখবর নিয়েছেন,  ত্রাণ ও পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০০৯–‌এর ২৫ মে আয়লা আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনে। ১১ বছরের মাথায় আমফানের জেরে বিপর্যস্ত গোটা জেলা। অভিজ্ঞরা বলছেন, আমফানের তীব্রতা আয়লার থেকেও বেশি। বেশি এলাকা জুড়ে তাণ্ডবও চালিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় স্থায়ী হয়েছিল ২ ঘণ্টার বেশি। আড়াই লক্ষ মানুষকে প্রায় ৫০০ ত্রাণশিবিরে তুলে আনায় প্রাণহানি ঠেকানো গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ত্রাণশিবির ছেড়েছেন অনেকেই। এদিন থেকে রান্না–করা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা গাছকাটতে শুরু করেছেন। জাতীয় সড়কের ওপরে পড়া–‌গাছ সরানো হয়েছে। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ বরাবর বিপর্যয়ের ছবিতে প্রকৃতির রোষ স্পষ্ট। প্রান্তিক মানুষদের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।

জনপ্রিয়

Back To Top