দীপঙ্কর নন্দী: যে কারও পারিবারিক অনুষ্ঠানে সাংসদ সৌগত রায় গভীর রাতেও কিছুক্ষণের জন্যে হলেও দেখা করে আসেন। অনুষ্ঠান বাদ দেন না। এমনও দিন গেছে, একদিনে ১৮টি তেমন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থেকেছেন। তাঁর জনসংযোগ দেখলে অবাক হতে হয়। দমদম এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁকে খুব ভালবাসেন। এলাকার বিধায়করা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এবারও লোকসভা নির্বাচনে সৌগত রায় দমদম থেকে প্রার্থী হয়েছেন। ৫ বছরে সাংসদ তহবিলের ২৫ কোটি টাকা এলাকার উন্নয়নের জন্য খরচ করে ফেলেছেন। এ ছাড়া এলাকার মানুষের আপদে–‌বিপদে সাহায্য করে চলেছেন।
১৯৪৭ সালে জন্ম সৌগত রায়ের। ৩০ বছর বয়সে চরণ সিংয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য হন। তাঁকে দেওয়া হয়েছিল পেট্রোলিয়াম দপ্তর। মন্ত্রিসভা বেশি দিন টেকেনি। ২০০৯–‌এ কেন্দ্রের মন্ত্রিসভায় যায় তৃণমূল কংগ্রেস। সৌগত মন্ত্রী হন। ২০১২–‌য় তৃণমূল মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসে। ইতিমধ্যে ২০১১–‌য় মা–‌মাটি–মানুষের সরকার হয়েছে। এর ফলে এলাকার উন্নয়নের কাজ সহজ হয়েছে। কিছুদিন পরে সব পুরসভাই তৃণমূলের হাতে চলে আসে। দমদমে কাজের গতি আরও বেড়ে যায়। ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সৌগতর বড় কাজ ছিল জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশনে। পরবর্তী কালে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়। ৩টি পুরসভা নিয়ে ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে জলপ্রকল্প গড়েন। পানিহাটিতে জলপ্রকল্পের জন্য দেওয়া হয় ২৫০ কোটি টাকা। বাগুইআটি–‌নাগেরবাজার ও ডানলপে নতুন উড়ালপুল হয়েছে। বাগজোলা খালের সংস্কার করা হয়েছে। দমদম–‌দক্ষিণেশ্বর মেট্রো আগামী বছরের গোড়ায় শেষ হবে। মেট্রোর জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় প্রমোদনগরে ৫৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। রাজীবনগরে ২০০ পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। মেট্রোর জন্য বরানগর, বনহুগলিতে ৮৫০টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বাড়ি। পিপিপি মডেলে এগুলি তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামের কাজও হয়েছে।
সৌগত এদিন বলেন, ‘‌২০১৪–‌য় বিজেপি সরকার আসায় বড় প্রকল্পের কাজ করা যায়নি। কেন্দ্রের অসহযোগিতার জন্যে পুরনো প্রকল্পগুলিও শেষ করা যায়নি। আপনারা জানেন, সাংসদের হাতে সরাসরি উন্নয়ন করার সুযোগ থাকে না। সাংসদ তহবিলের টাকা দিয়েই উন্নয়ন করতে হয়।’
বাংলা থেকে মন্ত্রী হওয়ার কোনও ইচ্ছে ছিল কি না জানতে চাওয়া হলে সৌগত বলেন, ‘‌সবটাই দল ঠিক করে। দল যা বলবে, সেভাবেই আমাদের চলতে হয়। দিল্লি তো ভালই লাগে। অনেক দিন তো হল।’‌ এলাকার বিধায়ক ও নেতাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?‌ সৌগত বলেন, ‘‌অমিতদা, ব্রাত্য, তাপসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভাল। সারা বছর আমরা কাজের মধ্যে থাকি। কোনও ঝগড়া নেই। এলাকায় ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। আমার এলাকায় বিজেপি–‌র সংগঠন নেই। আমাদের কর্মীরা যত রক্তদান শিবির করেন, তার তুলনায় বিজেপি কিছুই করে না। ওদের কোনও নেতা নেই। আমার ওখানে লড়াই সিপিএমের সঙ্গে। সিপিএমের সংগঠন আছে। যদিও চিন্তার কিছু নেই। মমতার উন্নয়নের জোয়ারে সব ভেসে যাবে।’‌
এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত খুবই পছন্দ করেন সৌগত। তিনি বলেন, ‘এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, আলো, বিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, কলেজ, জলসত্র, শৌচালয়, পুকুর বাঁধানো–‌সহ অনেক কাজ হয়েছে। দমদমে ২৫০টি ওয়ার্ড আছে। সব ওয়ার্ডে কাজ হয়েছে। রোগীদের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা আনতে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি।’
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে লেক গার্ডেন্সের বাড়িতে ভিড়। দমদমের কয়েকজন কাউন্সিলর এসে দেখা করে যান। ঘন ঘন সিগারেট খাচ্ছেন। শুগারের জন্য খাওয়া‌দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। চিনি ‌ছাড়া লাল চা খান। মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর এলাকায় এখন দেওয়াল লেখা চলছে। তিনি নিজেই মাঝেমধ্যে দেওয়াল লিখছেন। লেক গার্ডেন্সে বসার ঘরে পঙ্কজ ব্যানার্জির ছবি। জানতে চাওয়া হলে বললেন, ‘‌পঙ্কজ আমার সহকর্মী ছিল। একসঙ্গে আমরা কাজ করতাম। একজন এসে পঙ্কজের ছবি আমাকে দিয়ে গেল। বইয়ের সেলফের ওপর ওর ছবি রেখে দিয়েছি।’‌ রয়েছে রবীন্দ্রনাথ, সেন্ট টেরিজার ছবি। আছে মমতার ছবিও। বললেন, ‘‌প্রিয়দার একটা ছবি বসার ঘরে রাখতে হবে।’‌‌

নিজের বাড়িতে সৌগত রায়। শুক্রবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top