আজকালের প্রতিবেদন: উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে চাই কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবনী দক্ষতা। না–‌হলে ‘‌স্মার্ট’‌ পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করা কঠিন। এ বিষয়টিতে সচেতন হতে হবে পড়ুয়াদের। কারণ শুধু বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, এখন বিশ্বের তাবড় সংস্থাগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মীই ‘‌নন–টেকনিক্যাল’‌। ‘‌ম্যানেজমেন্ট ডে’‌ উপলক্ষে মঙ্গলবার সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে এক আলোচনাসভায় বক্তাদের মতামত এমনটাই।ক্যালকাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই আলোচনাসভার বিষয় ছিল ‘‌উইনিং ইন দ্য ডিজিটাল এজ’‌। বক্তব্য পেশ করেন ম্যাকাউট–‌এর উপাচার্য সৈকত মৈত্র, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ধ্রুবজ্যোতি চ্যাটার্জি, আইআইএম কলকাতা–‌র অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বসু, শান্তনু রায়, প্রিয়ম বুধিয়া, অমিতাভ দত্ত ও সুরেশ মেমন। সৈকত মৈত্র বলেন, ‘‌অনলাইন কোর্সের গুরুত্ব বাড়ছে। বহু বড় সংস্থা অনলাইনে কাজ–‌শেখাদের চাকরিতে বহাল করছে। সেল্ফ লার্নিং‌–‌কে যথেষ্ট আমল দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনা ও বিনোদনের মিশেলে তৈরি হয়েছে ‌এডুটেনমেন্ট‌।’‌ ইন্দ্রনীল বসু বলেন, ‘‌ডিজিটাল ক্ষেত্রকে জয় করতে চাইলে প্রযুক্তিগত ভাবে সচেতন থাকতে হবে।’ আলোচনায় সুরেশ মেমন জানালেন, দিন–‌দিন ‘‌স্মার্ট’‌ পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফ্রিজে রাখা দুধের বোতলে আর কতটা দুধ আছে তা যদি ফ্রিজ নিজেই খেঁাজ রাখে এবং তা সময়মতো গৃহকর্তাকে জানাতে পারে, তা হলে সেটি হয়ে উঠবে একটি স্মার্ট ফ্রিজ। প্রতিটি পণ্যেই ভ্যালু অ্যাড‌ হচ্ছে।’‌ সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ধ্রুবজ্যোতি চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌ম্যানেজমেন্ট এডুকেশনের এখনকার পড়ুয়ারা অনেক বেশি সচেতন। তঁাদের জন্য পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত করা হয়েছে।’‌
এদিনের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘‌তারকারা কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপনে আসলে নিজেদের প্রচারণা করেন’‌।‌ এর বিপক্ষে বক্তব্য পেশ করে সেরা বক্তার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বিবিএ–র প্রথম বর্ষের পড়ুয়া রাজেশ্বরী রায়চৌধুরি। ব্যবসায়িক উদ্যোগ পরিকল্পনায় প্রথম হয়েছেন অন্বেষা মল্লিক। প্যাডেল ওয়াশিং মেশিনের মডেল তৈরি করেছেন অন্বেষা, যাতে খুব কম পরিশ্রমে বিদ্যুৎ ছাড়াই জামাকাপড় কাচা যাবে। এ ছাড়াও প্রশংসিত হয়েছে তিয়াষা ভট্টাচার্যের ‘‌অর্গ্যানিক ফুড ট্রাক চেইন’‌। কথা ঘোষের জৈব সার প্রকল্প। মহম্মদ খালিদের ‘‌ভয়েস কন্ট্রোল হোম অটোমেশন’‌। কৃষকদের সরকারি ঋণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করতে এবং সহজে ঋণ পেতে হীরক রায়ের ওয়েবসাইট ‘‌গণিত বুক’‌। এবং পিয়ালি বণিকের ‘‌অ্যাশ ব্রিক’ প্রকল্প। ‌‌‌ 
প্রযুক্তিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মানে শুধুই বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিং নয়। গ্রাহকের চাহিদা বোঝা ও সমস্যা মেটানোর দিকেও মনোযোগী হতে হবে। এ ধরণের বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদজের ুত্তরণের পথ দেখাচ্ছে সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি।

জনপ্রিয়

Back To Top