সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: শীতকাল নেই। এখন বসন্ত। পলাশ ও শিমুলের লাল অবশ্য সেই বরফগলা জলে ধুয়ে আরও সতেজ। মুখে মুখে ‘স্নো’‌ মাখা‌ পাইনের বন দেখতে এই বসন্তেও পর্যটকরা ছুটছেন শৈলশহর ছেড়ে আরও ওপরে। বুধবার অবশ্য তুষার ঝরে পড়া শুরু করে দার্জিলিং শহরেও। হালকা তুষার মাটিতে পড়ার আগেই বৃষ্টির কারণে ভ্যানিশ হয়ে যেতে থাকে। তবে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে টাইগার হিল। পাহাড়ের এই অনিন্দ্যসুন্দর পর্যটন কেন্দ্রে এদিন বেশ ভালমতো তুষারপাত হয়। যার সাক্ষী হতে দলে দলে পর্যটকরা পাহাড়ে ওঠা শুরু করেন। সরকারি হিসেবে অন্তত ৬০০ পর্যটক অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন টাইগার হিলে। এদিন ধোতরে, মানেভঞ্জন–‌সহ বেশকিছু এলাকায় দারুণ তুষারপাত হয়। অন্যদিকে সেন্ট পল্‌স স্কুল, ঘুম, জোড়বাংলোর মতো এলাকায় তুষার পড়লেও জমতে পারেনি। বসন্তে এমন তুষারপাতের জন্য বিপদ উপেক্ষা করে অনেকে ফালুট, সান্দাকফুতে উঠে পড়েন। পরে রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেকে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে নেপাল হয়ে শিলিগুড়ি নামেন। অন্যদিকে, পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এদিন বৃষ্টিও চলেছে দুপুর পর্যন্ত। সমতল শিলিগুড়ি–সহ বিস্তীর্ণ ডুয়ার্স, তরাই ও অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে।
শীতের ছুটি কাটিয়ে পাহাড়ের সব স্কুল খুলে গেছে। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সমতলে নেমে আসা মানুষেরা ফের উঠে গেছেন পাহাড়ে। এমন সময়ে বৃষ্টি ও তুষারপাতের জেরে পুনরায় শীত নেমে এসেছে উত্তরে। এদিনও বৃষ্টির মধ্যেই পাহাড়ের নানাস্থানে তুষারপাতের ঘটনা ঘটে। ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক চন্দন প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপকহারে তুষারপাতের মধ্যেই সান্দাকফুতে ৪০ জন পর্যটককে উঠতে দেখা গেছে। ফালুট, কালপোখরি, গৈরিকে গেছেন অন্তত ৭০ জন। এর মধ্যে ফালুটের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সান্দাকফুর পথে শেষ দিকে ৬টি গাড়ি আটকে যাওয়ায় আর উঠতেই পারেনি। এসব এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকরা কেউ বিকল্প পথ ধরে ট্রেকিং করে দার্জিলিং নামেন, অনেকে নেপাল হয়ে শিলিগুড়ি নামেন। এদিন সিকিমেও ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে। ছাঙ্গু ও বাবামন্দির এলাকার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এদিন শিলিগুড়ি–‌সহ গোটা উত্তরবঙ্গে দিনভর বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top