‌স্বদেশ ভট্টাচার্য: হাতের মুঠোয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র। স্রেফ একটা অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন দিয়েই এমন যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে বসিরহাট হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আত্রেয় মণ্ডল ও নীপতনু নাথ। একটু প্রশিক্ষণ থাকলেই এই যন্ত্র ব্যবহার করে রক্ত কণিকা, ম্যালেরিয়া কিংবা ফাইলেরিয়ার জীবাণুর হদিস বাড়িতে বসেই যে কেউ পেয়ে যাবেন‌। পড়ুয়ারা এই অণুবীক্ষণে জীবন বিজ্ঞানের পাঠ্যাংশ বিষয়গুলি চাক্ষুষ করতে পারবে। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা ছাত্র–‌যুব বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে দুই বন্ধু মিলে প্রথম হয়েছে এই মডেলের জন্য। ২ ছাত্রের এই সাফল্যে খুশি বসিরহাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপনকুমার রায়। তিনি বলেন,‘‌‌স্মার্ট ফোন নতুন এক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তা দেখিয়ে আমাদের অবাক করে দিয়েছে ওরা।’‌ ২ খুদে বিজ্ঞানী আত্রেয় ও নীপতনু জানায়, ‘‌যে কোনও আণুবিক্ষণিক বস্তু তাদের তৈরি এই যন্ত্রে ধরা পড়বে। ‌সি ডি প্লেয়ারের বাতিল লেন্স দিয়ে তৈরি হয় অবজেক্টিভ। মোবাইলের লেন্সকে আই পিস হিসেবে ব্যবহার করে স্লাইডের ওপর নিরীক্ষণ করতে হবে। মোবাইল এবং অবজেকটিভের নিচে স্লাইডটি রাখলে আণুবিক্ষনিক বস্তুকে কয়েক গুণ বড় করে দেখানো যাবে। আলোর উৎস হিসেবে থাকবে একটা কালো আর্ট পেপারে মোড়া পিসবোর্ডের চৌকো বাক্সের মধ্যে এলইডি আলো। ফাইবারের ঢাকনা দিয়ে বস্তুকে মোবাইলের ক্যামেরার নিচে রেখে সেটাকে ছোট–বড় করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রকে একেবারে হাতের মুঠোয় আনা কোনও শক্ত কাজ নয়।’‌ ‌‌দুই ছাত্র এই যন্ত্রের নাম দিয়েছে ‘‌স্মার্টফোন মাইক্রোস্কোপি’‌।  আত্রেয় ও নীপতনুকে  এই কাজে গাইড করেছেন বসিরহাট হাই স্কুলের শিক্ষক তীর্থ মণ্ডল ও দণ্ডীরহাট হাই স্কুলের শিক্ষক নীরজ নাথ। তাঁরা বলেন, ‘‌রক্তের ছোটখাটো পরীক্ষা এতে করা সম্ভব। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এটা দিয়ে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যেতে পারে।’‌  এটা সব থেকে উপকারে আসবে বিজ্ঞানের ছাত্রদের। জীবন বিজ্ঞানের যেসব পাঠ্য বিষয় চাক্ষুষ করতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দরকার হয়, সেই প্রয়োজন মিটবে মোবাইল স্ক্রিনেই। 

জনপ্রিয়

Back To Top