নিরুপম সাহা,বাগদা: ঘরের ভেতরেই ঘুমন্ত অবস্থায় দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া অ্যাসিডে মারাত্মকভাবে জখম হলেন এক গৃহবধূ এবং তঁার ৩ বছরের শিশুকন্যা। রাতেই তঁাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আক্রান্ত মহিলার মুখে এবং শরীরের ওপরের অংশে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তঁার শিশুকন্যার মুখেও। 
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকার ঘটনা। কী কারণে এই অ্যাসিড হামলা পুলিশ তা জানার চেষ্টা করছে। পুলিশ এবং পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাগদার করঙ্গ মালিপোতা গ্রামের গৃহবধূ টুম্পা দাসের স্বামী কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার কয়েকজন ওই বধূকে কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের চোখের বালি হয়ে ওঠেন। সম্ভবত সেই শত্রুতার জেরেই এই হামলা বলে অনুমান পরিবারের সদস্যদের। আক্রান্ত বধূর দেওর শ্যামল দাস বলেন, ‘‌অন্যান্য দিনের মতো বুধবার রাতেও খাওয়া–দাওয়া সেরে বাড়ির সবাই যে যার ঘরে চলে যান। বৌদিও তঁার মেয়েকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ হঠাৎই বৌদির চিৎকার শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। ছুটে গিয়ে দেখি বৌদির মুখের এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। একই অবস্থা ছোট ভাইজিরও। তঁাদের বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।’‌
আক্রান্ত গৃহবধূ টুম্পা দাস বলেন, ‘‌ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মুখে এবং শরীরে জ্বালা শুরু হয়। ঘুম ভেঙে গিয়ে জিনিসটি অ্যাসিড বলে বুঝতে পারি। তখনই মনে হয়েছে ঘরের খোলা জানালা দিয়ে কে বা কারা আমার মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরেছে। অ্যাসিডে আমার ছোট্ট বাচ্চার মুখেও ক্ষত তৈরি হয়েছে।’‌ এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ হামলাকারীদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে, জখম গৃহবধূ এবং তঁার শিশুকন্যাকে চিকিৎসার পর ছুটি দিয়েছে বাগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই গৃহবধূ বাগদা থানায় এই ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও সেই অভিযোগে কারও নাম উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে। আক্রান্ত গৃহবধূ টুম্পা দাস পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তার পর যখন তঁার ঘুম ভাঙে তখন বাইরে অন্ধকার। সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ফলে কে বা কারা এই অ্যাসিড হামলা চালিয়েছে, তা দেখার সুযোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশ এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে হামলাকারীদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে।

আক্রান্ত বধূ। পাশে আত্মীয়ার কোলে জখম শিশু। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top