শীতলকুচি কাণ্ডে জেরা পুলিশ সুপারকে, রেকর্ড করা হল বয়ান

আজকাল ওয়েবডেস্ক: শীতলকুচি কাণ্ডে জেরা করা হল কোচবিহারের প্রাক্তন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে। আপাতত সাসপেনশনে আছেন তিনি। শুক্রবার ভবানী ভবনে তাঁকে জেরা করেন সিআইডির আধিকারিকরা। সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত পুলিশ সুপারকে জেরা করা হয়েছে বলে সিআইডির একটি সূত্র জানায়। পুলিশ সুপারকে আবার ২২ জুন সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসতে বলেছে। 
ওই সূত্রটি জানিয়েছে, শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভবানী ভবনে চলে আসেন দেবাশিস। এরপর সিআইডির ডিআইজি (স্পেশাল) কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে জেরা শুরু করেন। জেরার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ওই সূত্রটি জানিয়েছে, মূলত ঘটনার দিন কী হয়েছিল সেই বিষয়টি পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি তা জানিয়েছেন এবং গোটা এই জেরা পর্বটি ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। এর আগে যে সমস্ত পুলিশ অফিসারের বয়ান রেকর্ডিং করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে বলে ওই সূত্রটি জানায়।
গত ১০ এপ্রিল রাজ্যে চতুর্থ দফার ভোট চলাকালীন কোচবিহার জেলার শীতলকুচির জোর পাটকি গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যান চার জন গ্রামবাসী। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব জেলা পুলিশের হাতে থাকলেও পরে এই তদন্তের দায়িত্বে আসে সিআইডি। সিআইডির ডিআইজি (স্পেশাল)'র নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সিট বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানার অফিসার এবং ঘটনার দিন উপস্থিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ড্রোনের সাহায্যে ঘটনাস্থলের ছবি তুলেছেন। ইতিমধ্যেই জেরা করতে চেয়ে  ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের পাঠাতে অনুরোধ করে তাঁদের উপরওয়ালাদের অনুরোধ করেছে সিআইডি।
ভোটকেন্দ্রটির ব্যবস্থা হয়েছিল একটি স্কুলে। স্কুলের যে ঘরটির সামনে গুলি চালানো হয়েছিল, সেই ঘরটির মধ্যে ব্ল্যাকবোর্ডের গায়ে একটি দাগ দেখে সিআইডির সন্দেহ হয় সেটি গুলির দাগ। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে গুলি করা হয়েছিল। এরপর সেটি পরীক্ষা করতে কলকাতা থেকে স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি–র একটি দল শীতলকুচি যায়।