গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি : ‌পরিবেশ রক্ষা আর জমি রক্ষা। একসঙ্গে দুটি উদ্যোগ এবার উত্তরবঙ্গের ফুলবাড়িতে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির রাধাবাড়িতে বিস্তীর্ণ সরকারি পতিত জমিতে এবার তৈরি হতে চলছে বনাঞ্চল। অতি দ্রুত বনায়নের জন্য এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে জাপানের মিয়াওয়াকি পদ্ধতি।
জাপানের বিখ্যাত উদ্ভিদবিশারদ মিয়াওয়াকি আকিরা পরিবেশ রক্ষার কাজে নতুন অরণ্য গড়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। তঁার পদ্ধতিতে কম জায়গায় বেশি সংখ্যক চারাগাছ লাগানো সম্ভব। এই সব গাছ ২–৩ বছরেই বেড়ে উঠে এলাকায় গভীর বনভূমি তৈরি করে। রাজ্যে এটি দ্বিতীয় বড় প্রকল্প। ইতিমধ্যে প্রথম পাইলট প্রজেক্ট করা হয়েছে হাওড়ার শ্যামপুরে। সেখানে কৃত্রিম উপায়ে জঙ্গল তৈরি করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাইলট প্রজেক্ট রাধাবাড়িতে। একদিকে জোড়াপানি নদী, অন্যদিকে তিস্তা সেচখাল। অদূরেই শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি সড়ক। তার মাঝেই পরিত্যক্ত খাসজমি বেদখলের চেষ্টা হচ্ছিল। সেখানে প্রথম পর্যায়ে ২৭ বিঘা জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সামাজিক বনসৃজন বিভাগ গাছ দেবে। সহায়তা করবে উদ্যান ও কানন বিভাগ। তদারকি করবে ফুলবাড়ি–২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।
জেলা পরিষদ মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন চাইবে। পর্যটন দপ্তর পুরো এলাকাটি ঘিরে দেবে। মঙ্গলবার ওই এলাকা ঘুরে দেখেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‌মানুষ জঙ্গল কাটছে। আর আমরা এখানে বনভূমি বানাচ্ছি। এখানে লাখো গাছের মধ্যে একদিকে পলাশ, মহুয়া, সেইসঙ্গে কৃষ্ণচূড়া গাছের জোন করা হবে। শিশু, সেগুন, শাল, আম, কঁাঠাল, কাজু, আমলকী, রিঠা, নিম, বেল গাছে ছেয়ে যাবে এলাকা। এই বনভূমি দেখতে আসবেন মানুষ।’‌ কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এদিন তাই ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তর, ব্লক প্রশাসনের কর্তারা এখানে এসেছিলেন। উদ্যান পালন বিভাগের ডিএফও অ্যাঞ্জেলা ভুটিয়া, উদ্যান ও কানন বিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ, অতিরিক্ত জেলাশাসক (‌সাধারণ)‌ সুনীলকুমার আগরওয়াল এলাকা দেখে যান।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে একই জমিতে অনেকগুলি স্তরের গাছ তৈরি করা সম্ভব হয়। গাছগুলি পরস্পরের সঙ্গে বেশি ঘেঁষে থাকে। গাছগুলি এমন ভাবে লাগানো হয়, যাতে খানিকটা বেড়ে উঠলেই মাটি পর্যন্ত সূর্যরশ্মি পৌঁছয় না। এর ফলে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে। সেই কারণে নিয়মিত গাছে জল দেওয়ার পরিশ্রম কমে যায়। সূর্যরশ্মি সরাসরি ওপর থেকেই পড়ে। ফলে গাছগুলির লম্বায় যত দ্রুত এবং বেশি বড় হয়, চওড়ায় তত হয় না। সব মিলিয়ে কম জায়গায় বেশি গাছ তৈরি করা যায়। মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য বিভিন্ন জেলার নরেগা প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের ভাবনা, আগামী দিনে শহরাঞ্চলেও এই ধরনের কৃত্রিম জঙ্গল তৈরি হবে। যাতে বাতাসে অক্সিজেনের জোগান বাড়ানো যায়। রাধাবাড়ির এই বনাঞ্চল যাতে অন্তত হাজার পাখির আবাসভূমি হয়ে ওঠে, তার জন্য আলো–‌শব্দে নিয়ন্ত্রণ থাকবে এলাকায়।

জনপ্রিয়

Back To Top