প্রভাত সরকার,ফরাক্কা: অভিভাবকদের প্রায় ৬০ শতাংশই নিরক্ষর। তাই অক্ষর জ্ঞান নেই এমন কাউকে স্বাক্ষর করতে পারলেই পরীক্ষায় মিলবে বাড়তি নম্বর। এলাকায় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে এমন অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রঘুনাথগঞ্জের দফরপুর খরিবনা হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীদের বইমুখী করে তুলতে গড়ে তোলা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার। ছাত্রছাত্রীরা গ্রামের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে বই সংগ্রহ করে এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছে। আবার বই পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রীরাই বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দিচ্ছে। স্কুলের এই ভূমিকায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘনবসতিপূর্ণ পিছিয়ে পড়া এলাকা বলেই পরিচিত রঘুনাথগঞ্জের দফরপুরের খরিবনা গ্রাম। প্রায় নয় হাজার মানুষের বসবাস। শিক্ষার হারেও অনেক পিছিয়ে। ২০০১ সালে ৩৭ জন স্কুলছুট দু’‌জন শিক্ষককে নিয়ে গাছের তলায় এই স্কুলটি চালু হয়েছিল। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। বর্তমানে পড়ুয়াদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০০। শিক্ষকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩২। এবছর একাদশ শ্রেণির অনুমোদন মিলেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘‌গ্রামের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। এটার পরিবর্তন চেয়েছিলাম। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিই কোনও পড়ুয়া তাঁর বাবা–মা বা পড়শিকে স্বাক্ষর করতে পারলেই কর্মশিক্ষায় তাঁকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হবে। এতে ভাল সাড়া মিলেছে। পাশাপাশি বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হয়েছে। পড়ুয়ারা প্রতি শনিবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই পৌঁছে দিচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ছে।’‌‌‌

বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দিচ্ছে পড়ুয়ারা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top