সম্বৃতা মুখার্জি: করোনার থাবায় মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী এখন মাস্ক। ঘরের বাইরে পা দিলেই মাস্ক পরা এখন বাধ্যতামূলক। বিগত দু’‌মাসের বেশি সময় ধরে এন৯৫, থ্রি প্লাই, কটন মাস্ক ইত্যাদি শব্দে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আপামর দেশবাসী। করোনার গ্রাস যত বাড়ছে, ততটাই বাড়ছে মাস্কের চাহিদা। নামী ব্র‌্যান্ডেড মাস্কের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি মাস্ক। ১০ টাকা বা ১৫ টাকা থেকে শুরু হয়ে কোথাও কোথাও ৪০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে এই মাস্ক। এন৯৫ মাস্কের দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫০০ টাকা, সার্জিক্যাল মাস্কের ৫০টির সেটের দাম মোটামুটি ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। কিনতে পাওয়া যাচ্ছে ওষুধের দোকান ও অনলাইনে। কিন্তু এন৯৫–এর মতো দামী মাস্ক সকলের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি সুতির কাপড়ের মাস্ক, বা একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্কের দিকেই ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ।
তেহট্টের ২ নম্বর ব্লকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি থ্রি লেয়ার মাস্ক প্রশাসনের তরফে কিনে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মাস্কের জন্য তাঁরা পাচ্ছেন ১৫ টাকা করে। সাহেবনগর ও পলাশিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি ক্লাস্টার কমিটির মহিলারা মাস্ক তৈরি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বানাচ্ছে কাপড়ের মাস্ক। হাওড়ার হোসিয়ারি কোম্পানিগুলি তৈরি করছে গেঞ্জি কাপড়ের মাস্ক। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়। অনেকে আবার বাড়িতেই পুরনো গেঞ্জি কেটে ইলাস্টিক লাগিয়ে বানিয়ে নিচ্ছেন মুখবন্ধনী।
ফ্যাশনপ্রিয় বাঙালির আবার বেশি দিন এক জিনিস পছন্দ নয়। তাই একঘেয়েমি কাটিয়ে ওঠানোর তাগিদে মাস্কে আসছে নানা বৈচিত্র। কলমকারি, বাটিক, আজরাখ, লেস বা সুতোর নকশা করা থেকে পোলকা ডটস। খাদি কাপড়, সুতির রঙিন কাপড় কেটে নানা স্তরে সাজিয়ে সেলাই করে মাস্কে আনা হচ্ছে নতুনত্ব। অনেকে আবার মাস্কের ওপর আঁকিয়ে নিচ্ছেন ছবি। ছোটদের জন্য জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র আঁকিয়ে নিচ্ছেন বাবা–মা। পেশাদারি পোশাক আঁকিয়েদেরও এখন চাহিদা তুঙ্গে। কেউ কেউ আবার নিজের মুখের ছবির ডিজিটাল প্রিন্ট করিয়ে নিচ্ছেন মাস্কে। ফ্যাশন ডিজাইনাররা রকমারি স্টাইলে তৈরি করছেন মাস্ক। একদম ছোটরা কালো বা একরঙের মাস্ক পরতে চায় না। তাই তাদের জন্য রংবাহারি সুতির মাস্ক কিনতে চাইছেন অনেকেই। আবার আস্তে আস্তে দোকান খোলার পর বহু ক্রেতা নিজের প্রয়োজনের থেকে একটু বেশি কাপড় কিনছেন, পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে ফ্যাশনেবল মাস্ক তৈরি করানোর জন্য।
অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক যেমন বলে দিচ্ছেন যে, আগামী এক থেকে দু’‌বছর মাস্ক হবে আমাদের পোশাকের একটা নতুন ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তেমনিই সেই কথা মাথায় রেখে ফ্যাশনদুরস্ত বাঙালিও জামা বা চুড়িদার ছেড়ে এখন মাস্ক দিয়ে কীভাবে নিজেকে কেতাদুরস্ত করা যায় বা অন্যের চোখে নিজেকে আলাদা করা যায়, সেই নিয়ে রীতিমতো পরীক্ষা–নিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। করোনার আতঙ্ক থেকে নিজেকে একটু বিরত রাখতে সেই প্রচেষ্টাই বা কম কীসের? যদিও একত্রিতভাবে লড়াই করে করোনা–যুদ্ধে জয়ী হয়ে একদিন অমলিন হাসিমুখটাই হবে সবার ফ্যাশনেবল মাস্ক।‌

জনপ্রিয়

Back To Top