প্রদীপ দে, বহরমপুর: পৌষের দুপুরে হঠাৎ ভোটের লাইন। ভোটাররা তাদের পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে। বুথের বাইরে পুলিস। এমনই ভোট হল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার আন্ডিরন গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে। আসলে এই ভোট স্কুলের শিশু সংসদের ভোট। তবে স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের এমন ভোট দেখতে ভিড় জমেছিল ভালই। স্কুলে প্রতিবার শিশু সংসদ মনোনীত করেন স্কুলের শিক্ষকরা। কিন্তু এবার স্কুলের শিক্ষকরা ঠিক করলেন, না কোনও মনোনীত নয়। ভোট হবে। আর সেই ভোটে ব্যালট পেপারে ছাপ মেরে ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। ব্যস শুরু হল ভোটের প্রক্রিয়া।২০ জন প্রার্থী। ভোটার সংখ্যা ১১৪ জন। প্রতীক হল নৌকা আর টুপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বুথে ঢোকার মুখে অনুসন্ধান কেন্দ্র। বড় করে লেখা, কোনও রকম নেশার দ্রব্য নিয়ে ঢোকা যাবে না। হাতে পরিচয়পত্র নিয়ে খুদে ভোটারদের লাইন। সেই লাইন মাঝে মাঝে এসে দেখে যাচ্ছে পুলিসকর্মী সবনুর খাতুন। সবনুর স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একে একে সবাই ভোট দিল। না কোনও উত্তেজনা ছিল না। ছিল না বোমার আওয়াজ। লাঠি নিয়ে একে–‌ওপরকে হামলাও হয়নি। লাইনে দাঁড়ানো শুভজিৎ, যিশু, দেবুদের একটাই কথা, ‘‌আমাদের গ্রামে যখন কোনও ভোট হয়, গ্রামের লোকরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। বোমা ফাটে। খুব খারাপ লাগে। আমরা মাস্টার মশাইদের বলেছিলাম, আমরাও ভোট করব। কোনও ঝামেলা হবে না। হয়নিও।’‌ এই গ্রামে গত পঞ্চায়েতে ভোটের দিন ঝামেলা হয়েছিল। বোমা পড়েছিল মুড়ি–‌মুড়কির মতো। স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের এই ভোট যেন একটা শিক্ষা দিল। সাধারণ ভোটের মতো ছিল পর্যবেক্ষক। তারা এসেছিল পাশের স্কুল থেকে। ভোট পরিচালনা করে পাশের গ্রামের স্কুলের ছাত্রীরা। ভোটাররা রীতিমতো লাইন করে বুথে ঢুকে ব্যালট নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বক্সে রাখে। 
পর্যবেক্ষকরা ভোট দেখে রায় দেয়: ভোট নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়েছে। কোনও রকম অভিযোগ আসেনি। জানা গেছে, ২০ জন প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে ১১৪ জন ভোটার। পরে ঠিক হবে কে–‌কী পদে থাকবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, ‘‌আগে স্কুলে আমরা শিশু সংসদ মনোনিত করতাম। এর আগে সাতবার তেমনি হয়েছে। কিন্তু এবার সবাই বলল, না ভোট করা হোক। সেই মতো নির্বাচন হয়েছে।’‌ স্কুলের খুদেদের ভোট দেখে গ্রামবাসীদের একটাই কথা: এমন শান্তির ভোট কেন যে হয় না!

সচিত্র পরিচয়পত্র হাতে খুদে ভোটার।ছবি: চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top