আজকালের প্রতিবেদন- রাজ্যের স্কুলগুলি ৩০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পূর্ব ঘোষণামতো, ২৯ জুন, ২ ও ৬ জুলাই হবে উচ্চমাধ্যমিকের স্থগিত থাকা তিনদিনের পরীক্ষা। বুধবার জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, স্কুল বন্ধ থাকাকালীন ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা চালু রাখতে বিকল্প চিন্তাভাবনা করছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয়ভাবে শিক্ষকরা পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাতে পড়াতে পারেন সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলের কাছাকাছি থাকেন এমন স্থানীয় শিক্ষকদের নিয়ে পুরো বিষয়টির দায়িত্বে থাকবেন ডিআই এবং এসআইরা।
স্কুল বন্ধ থাকার ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি যাতে না হয় তার জন্য যে বিকল্প পথটি ভাবা হয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী, তা হল, ডিআই এবং এসআইরা স্থানীয়ভাবে যে শিক্ষকরা আছেন প্রথমে তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করবেন। এবং তাঁদের নিয়ে কাছাকাছি যে ছাত্রছাত্রীরা আছে তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে যতটুকু পড়ানো সম্ভব, পড়াবেন। শিক্ষকরা একটা দল তৈরি করেও এই পড়ুয়াদের আলাদা আলাদা ভাবে গিয়ে পড়াতে পারেন। তবে পুরো কাজটি করতে হবে করোনা পরিস্থিতিতে যে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে, তা মেনে। এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকায় একটা জিনিস বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হল, এই সময়কালে ছাত্রছাত্রীদের কীভাবে পড়ানো যায়। এ ব্যাপারে  শিক্ষক সংগঠনগুলির কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছিলাম। পেয়েছি। শিক্ষকদের কাছে আমি এই আবেদনই রাখব, তাঁরা যেন তাঁদের কাছাকাছি যে ছাত্রছাত্রীরা আছে, একটা দল করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের আলাদা আলাদা ভাবে গিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করেন।’‌ পরে এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‌বিষয়টি শিক্ষকদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। ডিআই, এসআইরা নামের তালিকা তৈরি করে তাঁদের অনুরোধ করবেন। তঁারা তো কাছাকাছি আছেন, যদি ১০ জনকে গিয়ে পড়াটা বুঝিয়ে আসেন। অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু সব পড়ুয়ার কাছে তো পৌঁছনো যাচ্ছে না। যেখানে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে না সেখানে যদি এভাবে শিক্ষকরা পড়ানোর দায়িত্ব নেন।  শিক্ষক সংগঠনগুলিকেও বলব, বাড়িতে বসে না থেকে আশেপাশে যে ছাত্রছাত্রীরা আছে তাদের পাশে দাঁড়ালে ভাল হয়।’‌ এই বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলির অবশ্য বক্তব্য, বেশির ভাগ শিক্ষকই অনেক দূরে থাকেন। একটা স্কুলে হাজার দুয়েক পড়ুয়া পড়ে। স্থানীয় শিক্ষকের সংখ্যা হয়তো কোথাও চার, পাঁচ বা খুব বড়জোর সাত–আট। তাঁদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে একজন একজন করে পড়ুয়া পড়ানো সম্ভব নয়।
আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ১০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী এদিন জানান, স্কুল বন্ধ থাকার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ জুন করা হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পোষিত সব স্কুল বন্ধ থাকবে। কারণ হিসেবে বলেন, ‘‌আমফানের কারণে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা— এই আটটি জেলায় বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলার অনেক স্কুলেই আইসোলেশন কেন্দ্র করা হয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন তাঁদের এই স্কুলগুলিতে রাখা হচ্ছে। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ স্কুলগুলির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌প্রাথমিকভাবে কয়েক হাজার স্কুল বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ছাদ ভেঙে পড়েছে। কোথাও শৌচাগার, কোথাও মিড–‌ডে মিলের রান্নাঘরের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৭০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়েই এই হিসেব করা হয়েছে। যা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েও যেতে পারে।’‌ যে সমস্ত সংস্থা সিএসআর–এর মাধ্যমে দপ্তরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল শৌচাগার, জলের ব্যবস্থা ইত্যাদি করে দেবে, সেই সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এই সঙ্কট মুহূর্তে এই সংস্থাগুলির কাছে স্কুল ঘর সারিয়ে তোলার কাজে পাশে থাকার আবেদন করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে বলেন, ‘‌‌উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা ২৯ জুন, ২, ৬ জুলাই হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে কলেজকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবটা হবে। যতটা সম্ভব কাছাকাছি পরীক্ষা কেন্দ্র হবে। দূরে হলে পরিবহণের ব্যবস্থা থাকবে। আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত ৮টি জেলায় ১০৫৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ঝড়ে ৪৬২ পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। তবে বিকল্প পরীক্ষা কেন্দ্র ঠিক হয়েছে।’‌ আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের বই দেওয়ার প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে পাঠানো হয়েছে। কলেজ–‌বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। ইতিমধ্যেই কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  ফাইনাল সেমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে যে পরিকল্পনা মাফিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলছে সে ব্যাপারে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, আগে উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে ঠিক হয়েছে, লকডাউনের শেষে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় খোলার এক মাসের মধ্যে ফাইনাল সেমেস্টারের এবং চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top