আজকালের প্রতিবেদন: আজ তাঁর জন্মদিন— স্বামী বিবেকানন্দর। তাঁর সেই দর্শন ও ভাবনার নাম দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই— ‘‌সম্প্রীতি ফ্লাইওভার’‌। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘতম সেই উড়ালপুলের উদ্বোধন হয়ে গেল মমতারই হাতে শুক্রবার এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যায়। একই সঙ্গে জিঞ্জিরাবাজার থেকে বাটানগর মোড় পর্যন্ত ৬.‌৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালপুল রাজ্যের গতির মুকুটে আরও একটি পালক জুড়ল। এদিন এই উপলক্ষে বাবুঘাটে মিনি গঙ্গাসাগর মেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেছেন, ‘‌‌‌‌‌‌‌‌‌আমরা কারও কাছে ভিক্ষে চাইব না। মুড়িগঙ্গা নদীর ওপরও আমরা একটি নতুন লোহার সেতু তৈরি করে দেব। এর জন্য ডিপিআর তৈরি হচ্ছে। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প। কেন্দ্রকে বারবার বলা সত্ত্বেও কেন্দ্র কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’‌ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থেই নানা রকমের প্রকল্প হবে। নতুন এই উড়ালপুলের জন্য রাজ্য সরকার ২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন, মোটর সাইকেল, চার টাকার গাড়ি এবং সবজির গাড়িতে যেন টোল ট্যাক্স নেওয়া না হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‌আমরা এই তিনটি ক্ষেত্রেই ছাড় দিলাম। এই সেতুর নিচের রাস্তাটাও খুব সুন্দর করে তৈরি করে দেওয়া হবে। মাঝেরহাট সেতুর কাজ শুরু হয়ে গেছে।‌ আরও চারটি উড়ালপুলের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো রেলের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।’‌ পাশাপাশি এখান থেকেই এনআরএস হাসপাতালে একটি ক্যান্সার রেডিয়েশন মেশিনের উদ্বোধন করেন মমতা। এখানে ৭০ জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি, সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী মলয় ঘটক, তাপস রায়, রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসীরা এবং গঙ্গাসাগর তীর্থযাত্রী সমিতির সম্পাদক। বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ এই বাবুঘাটে জড়ো হয়েছেন। 
এদিকে, প্রস্তাবিত ওই সেতু লট নম্বর ৮ থেকে কচুবেড়িয়া পর্যন্ত তৈরি করা হবে। ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এই সেতু হয়ে গেলে, সাধারণ মানুষ, তীর্থযাত্রীদের গঙ্গাসাগর মেলায় পৌঁছতে অনেক কম সময় লাগবে। এখন যেতে প্রায় সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি। লট নম্বর ৮–‌এ পৌঁছে ভেসেলে মুড়িগঙ্গা পেরোতে হয়। কচুবেড়িয়া থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ বাস ও অন্যান্য যানে সাগরে কপিলমুনির আশ্রমে পৌঁছনো যায়। এতে অনেকটাই সময় লাগে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেছেন, ‘‌কঠিন তীর্থযাত্রা হল গঙ্গাসাগর। কারণ এটা জলের ওপর দিয়েই যেতে হয়। জলযাত্রা বলাই ভাল। সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার সেই জন্য বলা হয়। আর এবার অর্ধকুম্ভ হচ্ছে, পূর্ণ কুম্ভ নয়। ২০২৫ সালে সেখানে পূর্ণ কুম্ভ হবে। কেন্দ্র সেখানে টাকা দেয়। কিন্তু আমাদের এখানে গঙ্গাসাগরে যে তীর্থযাত্রীরা আসেন, পুজো দেন, তাঁদের লঞ্চে করে যেতে হয়। বিহার ,উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর তীর্থযাত্রী এখানে আসেন। এটা পবিত্র স্থান। ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি। রাজ্য সরকার তীর্থযাত্রীদের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেছে।  রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অসাধারণ কাজ করেন এই তীর্থে। আমরা তীর্থকর প্রত্যাহার করেছি। আগে কী হাল ছিল, আর এখন কী হয়েছে তা আপনারা দেখে আসুন। কপিল মুনির আশ্রমকে সুসজ্জিত করা হয়েছে। প্রচুর অতিথিশালা হয়েছে। রাস্তা হয়েছে। বকখালি সাগর উন্নয়ন পর্ষদ–সহ আমাদের রাজ্যের সমস্ত দপ্তর খুব ভাল কাজ করেছে।
এদিকে, গঙ্গাসাগর মেলায় প্রচুর ভিআইপি যান। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রীরা ছাড়া আর অন্য কোনও মন্ত্রী না গেলেই ভাল। তার কারণ, এর ফলে প্রশাসনের কাজের অসুবিধে হয়। সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েন। এই জন্যেই দুর্গাপুজোও মুখ্যমন্ত্রী পঞ্চমীর মধ্যেই উদ্বোধন করে দেন বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। যাতে দর্শনার্থীদের পুজো দেখার কোনও অসুবিধে না হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌গঙ্গাসাগরের ব্যাপারে আট জন মন্ত্রী দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁরাই বিষয়গুলি দেখভাল করবেন। আমিও মনিটরিং করব। অন্য মন্ত্রীরা কেউ যাবেন না। ২০ থেকে ২৫ লক্ষ তীর্থযাত্রীর দেখভালের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কোনও তীর্থযাত্রী যেন অসুবিধেয় না পড়েন সেটা দেখা আমাদের দায়িত্ব।’‌ অন্যদিকে, তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‌ধীরে ধীরে যান। তাড়াহুড়ো করবেন না। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখুন। যার যার ধর্ম তার তার কাছে। সব ধর্মই একসঙ্গে চলে। এটা একটা সংস্কৃতি, সভ্যতা। একতাই সংহতি। আমরা সবাইকে নিয়ে চলি। একা একা চলি না। কিন্তু ভারতবর্ষে কী চলছে?‌ একটা অপসংস্কৃতি। কোথাও অশান্তির সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিসকে জানান। সরকার চায় না কোনও রকম দুর্ঘটনা ঘটুক।’‌ এবার তীর্থযাত্রী ও সাংবাদিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা জানিয়ে পোস্টার। বারাসতে, শুক্রবার। ছবি: ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top