বুদ্ধদেব দাস ও যজ্ঞেশ্বর জানা,মেদিনীপুর ও এগরা: এবার সবংয়েও বিজেপি–র হাতে আক্রান্ত হলেন তৃণমূল নেতা, কর্মী–সমর্থকরা। আহত হয়েছেন ২২ জন। ভোট পরবর্তী হিংসায় ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি, গড়বেতা, চন্দ্রকোনা, কেশিয়াড়িতে রক্তাক্ত হয়েছেন তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা। সোমবার রাতে সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ববাঁধ গ্রামে তৃণমূল নেতা ও কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন তৃণমূল নেতা বুলবুল পান্ডা, জীবন মণ্ডল–সহ ২২ জন তৃণমূল কর্মী–সমর্থক। তঁাদের সবং ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর গ্রামে বিজেপি–র হামলায় আক্ৰান্ত নেতা–কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে যান সবংয়ের তৃণমূল বিধায়ক গীতারানি ভুইঁয়া। পরিবারকে সান্ত্বনা জানান। ভাঙচুর ও লুটপাট হওয়া বাড়িগুলি ঘুরে দেখেন। তঁার সঙ্গে ছিলেন সবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হাজরা বিবি, তৃণমূল নেতা আমল পান্ডা, অমূল্য মাইতি।
তৃণমূলের সবং ব্লক যুব সভাপতি আবু কালাম বক্স জানান, ‌বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত আগে সিপিএমের শক্তঘাঁটি ছিল। ২০১৬ সালের পর থেকেই সিপিএম কর্মী–সমর্থকরা বাম ছেড়ে রামে যোগ দেয়। ভোটের আগের দিনও তারা গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করেছিল। মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তা তারা করতে পারেনি। ভোটের দিন ভোট লুট করার চেষ্টা করেছিল, সেই চেষ্টাও মানুষ ও তৃণমূল নেতা–কর্মী–সমর্থকরা বানচাল করে দিয়েছেন।‌
সেই আক্রোশের জেরে সোমবার রাতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীরা হামলা চালায়। কেলেঘাই নদীর পাশেই পূর্ব বঁাধগ্রাম। এর ফলে নদী পেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর ও ময়না থেকেও কিছু বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী এই হামলায় যোগ দেয়। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রড, বোমা, ভোজালি, তীর, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। গভীর রাতে এই হামলা হওয়ায় কর্মী–সমর্থকরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। দরজা ভাঙার শব্দে তঁারা বাইরে বেরিয়ে আসতেই আক্রমণ চালানো হয়। কারও মাথায়, কারও ঘাড়ে, কারও পেটে, বুকে রড, ধরাল অস্ত্র, লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো ও  লুটপাটের পর আগুন ধরানোর উদ্যোগ নেয় বিজেপি–র দুষ্কৃতীরা। বাড়ির মহিলারা হাতে–পায়ে ধরে তা না করার জন্য অনুরোধ করেন। এরপরও তারা তাণ্ডব চালিয়ে ঘরে থাকা বাইক ভাঙচুর করে পালায়। বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়া বলেছেন, ‘‌বিজেপি–র গুন্ডারা ৪০টি বাড়ির টিনের ও অ্যাসবেস্টসের চালা ভেঙে দেওয়ায় ঝড়বৃষ্টির সময় কার্যত নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছেন পরিবারের লোকেরা। আমি বিডিও–কে জানিয়েছি ত্রিপল দেওয়ার জন্য। তিনি না দিলে আমরা দেব।’‌ 
অন্যদিকে, ব্যাগভর্তি বোমা–সহ বিজেপি–র এক নেতাকে গ্রেপ্তার করল পটাশপুর থানার পুলিশ। ধৃত বিজেপি নেতা মনোরঞ্জন প্রধানকে মঙ্গলবার কঁাথি আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত জামিন নাকচ করে তঁাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। কঁাথির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) রাজনারায়ণ মুখার্জি বলেন, ‘‌বোমাভর্তি ব্যাগ–সহ একজন বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তঁার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’‌ ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে ভোটের পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল পটাশপুরের বড়হাট অঞ্চল। তৃণমূলের দাবি, এলাকাকে সন্ত্রস্ত করতে সোমবার রাতে বোমা–বন্দুক নিয়ে জড়ো হয়েছিল বিজেপি–র নেতা–কর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ব্যাগভর্তি বোমা–সহ গ্রেপ্তার করে বিজেপি নেতা মনোরঞ্জনকে।
পটাশপুর ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তাপস মাজির অভিযোগ, ‘‌মনোরঞ্জন বিজেপি সমর্থক। বিজেপি–র লোকেরা পটাশপুরকে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপি–র তরফে ঘটনা তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হয়েছে।’‌ বিজেপি–র কঁাথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তপন মাইতি বলেন, ‘‌শাসক দল ও শাসক দলের পুলিশ প্রতি পদে বিজেপি কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করছে। মিথ্যা মামলায় সকলকে ফঁাসানোর চক্রান্ত করছে। কিন্তু এভাবে বিজেপি–কে আটকানো যাবে না।’‌

সবংয়ে আক্রান্ত মহিলাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়া। ছবি: বুদ্ধদেব দাস

জনপ্রিয়

Back To Top