বুদ্ধদেব দাস,হিজলি: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বৃহস্পতিবার থেকে এরাজ্যে প্রথম মহিলা পরিচালিত স্টেশন হিসেবে কাজ শুরু করল দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের হিজলি স্টেশন। এখন থেকে এই স্টেশনের পুরো কাজকর্ম চালাবেন মোট ২৪ জন মহিলা কর্মী।
ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রগিরি, মহারাষ্ট্রের মাতুঙ্গা, রাজস্থানের গান্ধীনগর স্টেশন সাফল্যের সঙ্গে চালাচ্ছেন ওই ৩ রাজ্যের মেয়েরা। নারী শক্তিকে সমাজে তুলে ধরতে এবং তাঁদের সম্মান জানাতে রেলের প্রতিটি জোনে একটি স্টেশন মহিলাদের দিয়ে চালানোর প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছে।
খড়্গপুর ডিভিশনের খুরদা রোড শাখায় পড়ে হিজলি স্টেশন। শুক্রবার স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল সুবজ ফ্ল্যাগ দুলিয়ে মেল ট্রেনকে সিগন্যাল দেওয়া, টিকিট বিক্রি, টিকিট চেকিং, স্টেশন চত্বর সাফাই ও প্রশাসনিক দায়িত্ব,সবকিছুই সামলাচ্ছেন মহিলারা। স্টেশন ডিরেক্টর সোনালী পড়িয়া, স্টেশন মাস্টার গীতা কুমারী, কমার্শিয়াল সুপারভাইজার রেণুকা হাঁসদা জানান, রাজ্যে প্রথম মহিলা পরিচালিত স্টেশনের কর্মী হতে পেরে তাঁরা গর্বিত। দক্ষিণ
পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম কুলদীপ তেওয়ারি বলেন, ‘‌হিজলী স্টেশন খড়্গপুর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে। পাশেই খড়গপুর আইআইটি। সেখানেই ছিল ব্রিটিশের কুখ্যাত হিজলি জেল। এই স্টেশনের ওপর দিয়ে মূলত দক্ষিণ ও উত্তর ভারতগামী ট্রেনগুলি যাতায়াত করে। উৎকল এক্সপ্রেস, স্মারক সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসের  মতো  মেল ট্রেন খড়্গপুর না ঢুকে হিজলি স্টেশন হয়ে যায়। এখান থেকে ওড়িশার খুরদা রোড পর্যন্ত কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলাচল করে। সারাদিনে চলে ৬টি প্যাসেঞ্জার ও ১২টি মেল। প্রতিদিন ৫০০ জন যাত্রী ওঠানামা করেন।  এই স্টেশনে থেকে দৈনিক আয় হয় ৩৫ হাজার টাকা। শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই স্টেশনকে পুরোপুরি মহিলা পরিচালিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।’‌ স্টেশনে থাকছেন ১ জন স্টেশন ডিরেক্টর, ১ জন স্টেশন মাস্টার, ৪ জন বুকিং ক্লার্ক, ৪ জন টিকিট চেকিং স্কোয়াড, ৩ জন আরপিএফ, ৩ জন জিআরপি, সাফাইকর্মী ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী ৭ জন, ১ জন পয়েন্টস স্টাফ। মোট ২৪ জন কর্মী। ইতিমধ্যেই রেলের লোকো পাইলট, ট্রেন গার্ড, টেকনিক্যাল বিভাগে মহিলা কর্মীরা কাজ করছেন। খড়্গপুর স্টেশনে টিকিট পরীক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ‘‌রাণী লক্ষ্মীবাই ব্রিগেড’‌। ‌‌

 হিজলি স্টেশনে ‌দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত মহিলা রেলকর্মীরা। ছবি: স্বরূপ মণ্ডল‌

জনপ্রিয়

Back To Top