আজকালের প্রতিবেদন, লালগড়, মেদিনীপুর ও সারেঙ্গা, ৫ মার্চ- হাতির ভয়ে লালগড় থেকে রয়্যাল বেঙ্গল সরে এল ধেড়ুয়ার জঙ্গলে। রবিবার রাতে বাঘটি ধেড়ুয়ার লাটাডিহার জঙ্গল থেকে কয়েকটি গ্রামে দাপিয়ে বেড়ায় বলে দাবি স্থানীয়দের। বাঁকুড়ার সারেঙ্গার খয়েরপাহাড়ি জঙ্গল এলাকায় বাঘ–আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা বাঘের পায়ে ছাপ দেখেছেন। যদিও জেলা বনাধিকারিক জানিয়েছেন, এ খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং গুজব। যে সব পায়ের ছাপ দেখানো হচ্ছে, সেগুলি হয় মিথ্যে নতুবা হায়নার হতে পারে। বাঘ ধরতে শনিবার লালগড়ের জঙ্গলে ফাঁদ পাতেন বনকর্মীরা। সেই ফাঁদে পা দেয়নি বাঘটি। এরপর শালবনির মধুপুরের জঙ্গলে বাঘের গতিবিধি দেখা যাওয়ায় সেখানেও দুটি ফাঁদ পাতা হয়। ফাঁদে পা দেওয়া তো দূরের কথা, বাঘের শব্দ পর্যন্ত পাননি বনকর্মীরা। মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা জানিয়েছেন, ‘‌এতগুলো হাতি একসঙ্গে এলাকায় ঢুকে পড়ায় বাঘ ধরার প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। গত দু’‌দিনের ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে বাঘ নতুন কোনও এলাকায় পালিয়ে গেছে।’‌
রবিবার গভীর রাতে বাঘটি ধেড়ুয়ার শিয়ারবনি, বনকাটি, লক্ষ্মণশোল, গাজিপুর–সহ কয়েকটি গ্রামে দাপিয়ে বেড়ায় বলে দাবি করেছেন গ্রামের মানুষজন। শিয়ারবনি গ্রামের শচীন মাহাতো জানান, বাঘের ভয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তাঁরা সাবধানে থাকছেন। জঙ্গলের পাশেই তাঁদের গ্রাম। এদিন রাত প্রায় ২টো নাগাদ গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখেন বাঘ গরুর পিঠে কামড়ে ধরেছে। চিৎকারে আরও অনেকে আলো নিয়ে বেরিয়ে লাঠি, বাঁশ নিয়ে তাড়া করলে বাঘটি জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। সোমবার সকালে বনকর্মীরা ধেড়ুয়ার লাটাডিহা, শিয়ারবনি জঙ্গলে বাঘের খোঁজে যান। দেখা মেলেনি। এদিকে, বাঘের ভয়ে লালগড় থেকে ঝিটকা পর্যন্ত পিচ রাস্তার সংস্কারের কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। দু’‌পাশে ঘন জঙ্গল। এর ওপর বাঘের ভয়। স্থানীয় শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। ঠিকাদার সৌরভ রায় জানান, বাঘের ভয়ে শ্রমিকদের অনেকে কাজ করতে চাইছেন না। বাঘ ধরা পড়লে কাজ শুরু হবে।‌
এদিকে, বাঘ আর হাতির আতঙ্কে লালগড়ের জঙ্গল–সন্নিহিত এলাকার মানুষজন সিঁটিয়ে আছেন। সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্ট থেকে আসা বিশেষজ্ঞ বনকর্মীরাও ওখানে রয়েছেন। ডিএফও বলেন, ‘‌শিয়ালবনি গ্রামে যে জন্তুর পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে, সেটি বাঘের পায়ের ছাপ নয় বলে মনে করছেন টাইগার প্রজেক্টের বিশেষজ্ঞরা। তবু সতর্কতা হিসেবে বনকর্মীদের টহলদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মধুপুরেও যে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে সেগুলি পুরনো। এদিকে, জঙ্গলে হাতি ঘুরে বেড়ানোয় এদিনও ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাপ ক্যামেরা দুটি পাল্টানো যায়নি। পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বাঘের ব্যাপারে নতুন কোনও খবর এলে সেইমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধেড়ুয়ার শিয়ারবনি গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ। ছবি:‌ স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top