সুকমল শীল: সোফিয়া বলল, ‘‌কাগজ দেখাইনি।’‌ শুক্রবার নজরুল মঞ্চে এক প্রশ্নের উত্তরে যন্ত্রমানবী সোফিয়া বলে, ‘‌৬৬টি দেশে ঘুরেছি, কোথাও কাগজ দেখাতে হয়নি। লাগেনি কোনও পরিচয়পত্র।’‌ সম্প্রতি তাকে প্রথম যন্ত্রমানবী হিসেবে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব উপহার দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় সে। এদিন নিজের পরিচয়ে সে বলে, ‘‌আমার নাম সোফিয়া। আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট। দুনিয়াটাকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করতে চাই।’‌ 
টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাকে জানতে চাওয়া হয়, কলকাতা এসে কেমন লাগছে, উত্তরে সোফিয়া জানায়, ‘‌কলকাতা নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের শহর। ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া। এখানে এসে ভাল লাগছে।’ যন্ত্রমানবীর মুখে এই‌ উত্তর শুনে অডিটোরিয়াম হাততালির শব্দে ভরে ওঠে। এদিন সোফিয়ার পরনে ছিল বাংলার লাল পাড়ের তাঁতের শাড়ি।
ভবিষ্যতে কি রোবট পৃথিবীর দখল নিতে পারে?‌ সোফিয়ার উত্তর, ‘‌রোবট কখনও মানুষের বিকল্প হতে পারে না। মানুষের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে পারে মাত্র। সেই সঙ্গে জানান, রোবট হিসেবে কাজ করাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং।’‌ 
সোফিয়াকে করোনা ভাইরাস নিরাময়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, করোনা যদি কোনও কম্পিউটার ভাইরাস হত, তাহলে অবশ্যই সে প্রতিরোধ করার উপায় বের করতে পারত। সেই সঙ্গে পৃথিবী জুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তার কথাও জানায়। প্রশ্ন করা হয়, মানুষ আর রোবটের মধ্যে কি কখনও মিল হতে পারে। সোফিয়ার উত্তর, ‘‌আমার মনে হয়, মানুষ একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুব কাছাকাছি চলে যাবে। এ সবকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের জ্ঞানকে আরও বিস্তৃত করবে। এখন মানুষের জীবনকে ঘিরে অনেক রোবট রয়েছে, যার কথা অধিকাংশ মানুষই জানে না। এমন দিন কি আসবে যখন রোবটের সঙ্গে মানুষ বসবাস করবে, কাজ করবে।
সত্যজিৎ রায়ের ‘অনুকূল’ গল্পে নিকুঞ্জবাবু চাকর হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলেন রোবট। সেই অনুকূল মানুষ চাকরের থেকে অনেক উন্নত ছিল। এরকমটা ভবিষ্যতে সত্যিই দেখা যাবে কি না, তা এখনই জানা সম্ভব নয়। কিন্তু বহির্বিশ্বে রোবটের আধিক্য বাড়ছে। চীন, জাপানের মতো দেশগুলিতে রোবট এখন নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু। এমনকী বিদেশের রেস্তোরাঁতেও বেয়ারার ভূমিকায় দেখা মিলেছে রোবটের। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও দিন দিন বাড়ছে। মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়াদের আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় ঘটাতেই এদিন এই অভিনব উদ্যোগ নেয় টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি। পূর্ব ভারতে যা প্রথম। উপস্থিত ছিলেন বহু প্রযুক্তি, মেডিক্যাল–ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক পড়ুয়ারা। 
টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির আচার্য গৌতম রায়চৌধুরী মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন, আগামী ১০ বছরে বাংলার কোনও পড়ুয়া যদি সোফিয়ার থেকে ৫ শতাংশ বেশি উন্নত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট তৈরি করতে পারে, তাহলে তাঁকে নোবেল প্রাইজের থেকেও ১ ডলার বেশি অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখার্জি, কুণাল সরকার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ অফ স্কুল এডুকেশনের চেয়ারপার্সন মানসী রায়চৌধুরী, গৌতম সেনগুপ্ত, এ কে রায়, আইএসআই অধিকর্তা সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তন অধ্যাপক অজয় চক্রবর্তী প্রমুখ। ছিলেন যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, আইআইটি খড়্গপুর, শিবপুর–সহ রাজ্যের বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎসুক পড়ুয়ারা। তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সোফিয়া। জানায়, তাঁর প্রিয় নায়ক শাহরুখ খান। ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top