অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর, ৫ ফেব্রুয়ারি- দানের টাকা প্রতিদানে দিলেন মৃতের পরিবার। ছেলের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছিল মাওবাদী হানায় মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের এক পরিবার। সেই টাকা থেকে ইতিমধ্যেই জওয়ানের পরিবার প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করে করিমপুর আনন্দপল্লীর শ্মশানে যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন। এই কাজ শেষ করতে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। করিমপুর থানার অভয়পুরে অসিত কর্মকার ও চন্দনা কর্মকারের দুই ছেলে। তার মধ্যে ছোট ছেলে অরূপ কর্মকার সিআরপিএফ–এ চাকরি করতেন। গত ২৪ এপ্রিল ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী হামলায় মারা যান। ২৬ তারিখে তাঁর মৃতদেহ করিমপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সেখান থেকে করিমপুর আনন্দপল্লীর শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মৃতদেহ সৎকার করা হয়। মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বাবদ জওয়ানের পরিবার রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার–সহ অন্যান্য জায়গা থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকার মধ্যে আট লক্ষ টাকা দিয়ে গত ১৫ নভেম্বর তাঁরা এই বিশ্রামাগার তৈরি করতে শুরু করেছেন। পরিবারের আশা, বিশ্রামাগারের স্মৃতির মধ্যে দিয়েই বেঁচে থাকবেন তাঁদের বীর পুত্র অরূপ। পরিবারের দানের প্রস্তাব স্বীকার করে ওই শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে শহিদের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি শ্মশান চত্বরে স্থাপন করে তাঁর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। অসিতবাবু ও চন্দনাদেবী বলেন, ‘‌মৃত অরূপ আমাদের সন্তানই শুধু নয়, সে এলাকার গর্ব। তার মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা আমরা পেয়েছি, তার একটা অংশ দিয়ে আমরা অরূপের স্মৃতি রক্ষার্থে এই বিশ্রামাগার তৈরি করে দিচ্ছি। ২২০০ বর্গফুট চারদিক খোলা এই বিশ্রামাগার তৈরি করতে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা খরচ হবে।’‌ শ্মশান কমিটির সদস্য রাকেশ সরকার বলেন, ‘‌শ্মশান যাত্রীদের জন্য এই বিশ্রামাগার তৈরি করে দেওয়ার জন্য এলাকার সকলে ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমরাও অরূপকে নিয়ে গর্ব করি। তাই তাঁর স্মৃতিরক্ষার জন্য এলাকার বাসিন্দারা ও শ্মশান কমিটি চাঁদা তুলে প্রায় এক লক্ষ টাকা ব্যয় করে অরূপের একটা পূর্ণাবয়ব মূর্তি শ্মশানে স্থাপন করবে।  আগামী ২৪ এপ্রিল অরূপ কর্মকারের মৃত্যুর দিন এই বিশ্রামাগারটির উদ্বোধন করা হবে।’‌ করিমপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রমেন ঘোষ বলেন, ‘‌এই বিশ্রমাগার তৈরির করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শহিদের বাবা–মা। শ্মশানের মধ্যে থাকা পঞ্চায়েতের আড়াই কাঠা জমি এই বিশ্রামাগার তৈরির জন্য আমরা শ্মশান কমিটিকে দিয়েছি। সেই জায়গায় অরূপ কর্মকারের পরিবার নিজেদের তদারকিতে বিশ্রামাগার তৈরি করছেন শ্মশান যাত্রীদের জন্য। দান পাওয়ার পর প্রতিদান দিতে খুব কমই দেখা যায়। অরূপ কর্মকারের পরিবার ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে শ্মশানে বিশ্রামাগার করে একটি নজির সৃষ্টি করলেন।’‌‌‌

শহিদ অরূপ কর্মকারের পরিবার করিমপুর শ্মশানে এই বিশ্রামাগার তৈরি করছে। ছবি:‌ রমণী বিশ্বাস
 

জনপ্রিয়

Back To Top