আজকালের প্রতিবেদন: কড়া নজর থাকছে কন্টেনমেন্ট জোনগুলির ওপর। মঙ্গলবারই কলকাতা, হাওড়া–সহ আশপাশের জেলাগুলির তালিকা তৈরি করে রাজ্য সরকার ঘোষণা করে দিয়েছে কোথায় কোথায় কন্টেনমেন্ট জোন হচ্ছে। কলকাতা ৩৩টি, উত্তর ২৪ পরগনার ২১৯, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫৩টি কন্টেনমেন্ট জোন। হাওড়ায় তালিকা তৈরি হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ কন্টেনমেন্ট জোনগুলিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করবে। অন্য জেলাগুলিতে প্রশাসন ও পুলিশ এ সংক্রান্ত সহযোগিতা করবে।
কলকাতার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এদিন কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। চিকিৎসকরা বলছেন, মাস্ক পরে থাকলে সংক্রমণ সম্ভাবনা কমে। কিন্তু অনেকেই তা না মেনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ যত্রতত্র থুথু, কফ ফেলছেন। এতে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারেও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, কয়েকটি এলাকা থেকে মাত্রাতিরিক্ত আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট এলাকা থেকে উত্তরোত্তর সংক্রমণের খবর আসায় ফের সংশ্লিষ্ট রাস্তা বা এলাকা বা আবাসন ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতার ভবনাপুর এলাকায় ৪টি রাস্তার একাংশ, উল্টোডাঙায় ৫টি, বেলেঘাটায় ৪টি, ফুলবাগানে ২টি, আলিপুরে ৪টি, কাঁকুড়গাছির ৩টি, হাডকোয় ১টি, বিজয়গড় ও যাদবপুরে ২টি করে, নিউ আলিপুরে ৩টি, কসবায় ২টি, মুকুন্দপুর ও অজয়নগরের একটি রাস্তার একাংশ কন্টেনমেন্ট জোনে পড়েছে। 
উত্তর ২৪ পরগনায় কড়াকড়ি বাড়াতে এদিন ব্যারাকপুর, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাটের পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে করেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী। জেলা প্রশাসনের পক্ষে নবান্নে পাঠানো ৭ দফা প্রস্তাবে হাট–বাজার বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। বলা হয়, ফল, ওষুধ, সবজি, মাছ, দুধের পরিষেবা অব্যাহত রাখতে হোম ডেলিভারি চালু থাকতে পারে। শুধু বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পরিষেবা চালু রাখা যেতে পারে। অফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানা চালাতে হবে ২০ শতাংশ কর্মী নিয়ে। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

হাওড়ার জেলাশাসক মুক্তা আর্য জানিয়েছেন, ‘কোন কোন এলাকায় কীভাবে লকডাউন কার্যকর করা হবে তার চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হবে।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাওড়ার কন্টেনমেন্ট ও বাফার জোনগুলিতে সমস্তরকম গণপরিবহন, দোকানপাট, বাজার, সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। উপযুক্ত কারণ ছাড়া বাসিন্দাদের বাইরে বেরনো নিষেধ। রাজ্য সরকারের নতুন ঘোষণার আগে পর্যন্ত হাওড়ায় মোট ১৪৬টি (এর মধ্যে হাওড়া পুর এলাকায় ৪১টি) কন্টেনমেন্ট জোন ছিল।
বুধবার থেকে লকডাউন ‌কঠোর হচ্ছে মালদা জেলার কিছু এলাকায়। ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদা পুর এলাকা ছাড়াও কালিয়াচকের একটা অংশে লকডাউন আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে। উত্তর দিনাজপুরের প্রধান পুর প্রশাসক সুভাষ গোস্বামীর আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী ৭ দিন সেখানকার সমস্ত দোকানবাজার বন্ধ থাকবে।

তথ্যসূত্র:‌ কাকলি মুখোপাধ্যায়, সোহম সেনগুপ্ত, গৌতম চক্রবর্তী, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়‌, অভিজিৎ চৌধুরি, সুনীল চন্দ।

জনপ্রিয়

Back To Top