চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কাটোয়া: গত ২৯ এবং ৩০ নভেম্বর পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমানে দুটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দুটি সভা থেকেই জেলার বালি মাফিয়াদের কার্যকলাপ নিয়ে সরব হন তিনি। মাফিয়ারাজ বন্ধ করতে কড়া নির্দেশও দিয়ে যান। তাতেই কাজ হয়েছে। এক মাসের ধারাবাহিক অভিযানে বালি চুরি ঠেকিয়ে জরিমানা বাবদ ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে এক মাসে এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় আগে কোনওদিন হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর তোপের পরই যৌথভাবে মাঠে নামে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পুলিস ও প্রশাসন। প্রবল ঠান্ডা থাকা সত্ত্বেও বালি চুরি রোখার অভিযানে এতটুকু গাফিলতি হয়নি। কখনও বালির ঘাটে, কখনও বড় রাস্তায় কখনও দিনে, কখনও রাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান সম্পর্কে জানা গেল, জেলাজুড়ে ৫টি দল আলাদাভাবে বিভক্ত হয়ে অভিযান চালায়। এ, বি, সি, ডি এবং ই— এই নামে প্রতিটি দলের মাথায় ছিলেন একজন করে ভূমি ও ভূমিসংস্কার এবং রাজস্ব বিভাগের আধিকারিক। এই পঁাচটি দল জরিমানা বাবদ এক মাসে আদায় করেছে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। আর মহকুমা, ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর মিলে আদায় করেছে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। মাঠে নেমে আধিকারিকরা দেখেছেন, এতদিন জেলার অজয় ও দামোদর ঘাটে সরকারি চালান ছাড়াই বালি তোলা, ভুয়ো চালান দেখিয়ে বালি পাচার, অনুমোদনহীন ঘাট থেকে বালি তোলা, ওভারলোডিংয়ের মতো নানান বেআইনি কাজকারবার চলত। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের জেরেই এমন বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায় সম্ভব হল মনে করছেন বহু সরকারি আধিকারিক।
বালি পাচার রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান দেখেই সরকারি অফিসাররা কালবিলম্ব না করেই অভিযানে মন দেন। জেলার বাসিন্দা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘অন্যায় করে মমতা ব্যানার্জির রাজত্বে যে রেহাই মিলবে না, তা এখন বুঝে গেছে অপরাধীরা। বালি থেকে বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায় মুখ্যমন্ত্রীর অন্যায় বিরোধী কড়া অবস্থানেরই অঙ্গ।’

অজয়ের চরে এভাবেই বালি তোলা হয়। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top