কলকাতা থেকে কোরিয়া পাড়ি দিচ্ছে নতুন যন্ত্র, ইতিহাস তৈরি হল বাংলায়

শ্রাবণী গুপ্ত:‌ আগামী সপ্তাহে কলকাতা থেকে কোরিয়া যাচ্ছে এই বিশাল যন্ত্র। প্রযুক্তির নয়া সৃষ্টি। ‘‌রিআরবান’‌ (re Urban) নামে পরিচিত হবে এই যন্ত্র। যা আগামীদিনে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নজির তৈরি করতে চলেছে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ইউরোপের বাইরে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতায়, অথবা আরও নির্দিষ্ট করে বললে নিউটাউনে অফিস। আর এই বিশালাকায় যন্ত্র তৈরি হচ্ছে ধূলাগড়ে।             
     ঠিক কীভাবে কাজ করে রিআরবান? প্রযুক্তির ভাষায় সি অ্যান্ড ডি (কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেমোলিশন) বর্জ্যকে পাথর ও বালিতে ভাগ করে এই যন্ত্র। অর্থাৎ আমাদের চারপাশে বহুতল তৈরি এবং ভাঙার পর যে কংক্রিটের বর্জ্য বের হয়, তার থেকে বালি ও পাথর আলাদা করে বের করে নেবে এই যন্ত্র। যা পরবর্তী সময়ে অন্য কোনও বহুতল তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তার মানে হল, বারবার কোনও ইমারত তৈরি করতে গেলে পাহাড় ভেঙে পাথর আর নদীর বুক চিরে বালি তুলতে হবে না। বাঁচবে প্রকৃতি। একটু হলেও বাঁচবে আগামীর পৃথিবী। 
বিজ্ঞান বলছে, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বহুদিন ধরেই বিশেষভাবে বিস্ফোরক দিয়ে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে বহুতল ভাঙা হয়। এবং পরে সেই বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করা হয়। 
দেবাশিস সেন, হিডকো–র মুখ্য অধিকর্তা এদিন এই যন্ত্রটির উদ্বোধন করলেন ধূলাগড়ে। aajkaal.in কে তিনি বললেন, ‘‌দীর্ঘদিন ধরে কোরিয়া থেকে টেলিভিশন, এসি, গাড়ি আমদানি হচ্ছে আমাদের দেশে। এই প্রথম আমাদের তৈরি যন্ত্র রপ্তানি হচ্ছে কোরিয়াতে। একজন বাঙালি হিসেবে খুব গর্ব অনুভব করেছি আজ। ধূলাগড়ে নিয়মিত এই যন্ত্র তৈরি হবে এবং এরপরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তা পাঠান হবে’‌। 
পরিবেশ নিয়ে যাঁরা নিয়মিত কাজ করেন, তাঁরাও বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রিত ও পুনর্ব্যবহার পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র উপায়। শুধু ভারতেই নয়, এশিয়াতে প্রথম এহেন যন্ত্র তৈরি করল আমাদের শহর কলকাতা।