যজ্ঞেশ্বর জানা,কাঁথি: স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির সুযোগ নিয়ে মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিস কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ঘটনা পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের। থানায় অভিযোগ জানালে তাঁকে গুলি করে মারা হবে বলে হুমকি দেয় অভিযুক্ত, এমনই দাবি করেছেন ওই মহিলা।  আতঙ্কে থানায় না যেতে পেরে জেলা পুলিস সুপার, অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ), কাঁথির সিআই এবং রামনগর থানার ওসিকে ডাকযোগে অভিযোগ জানান মহিলা। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ)। তবে ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে অন্য থানায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে।  উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁয় বাড়ি অভিযুক্ত কনস্টেবল মুসার। অতিরিক্ত পুলিস সুপার( গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‌আমি মহিলার অভিযোগ পেয়েই রামনর থানাকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তবে বদলির ব্যাপার আমার অজানা। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’‌ রামনগর থানার ওসি সত্যজিৎ চাণক্য অবশ্য জানিয়েছেন এটা সাধারণ বদলি। অনেক আগেই মুসার বদলির নির্দেশ এসেছিল। থানার পুলিসকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনচারেক আগে রামনগর থেকে বদলি হয়ে তমলুকে গেছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল মুসা। মহিলার শ্বশুরবাড়ি রামনগর থানার পালধুইয়ে। তাঁর স্বামীর আগের স্ত্রী বর্তমান। শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় না মেলায় বালিসাইয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামীর সঙ্গে উঠেছিলেন মহিলা। বছর দেড়েক আগে অশান্তি শুরু হলে মহিলাকে ছেড়ে চলে যান তাঁর স্বামী।  স্বামীর নামে রামনগর থানায় নালিশ জানাতে গেলে কনস্টেবল মুসার সঙ্গে পরিচয় হয় মহিলার। ক্রমশ দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। মহিলার দাবি, এরপর বিয়ের প্রস্তাব দেয় মুসা। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বিয়েতে রাজি হন তিনি। মাস তিনেক আগে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই বেঁকে বসে মুসা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মহিলা। তাঁর দাবি, এরপরেই তাঁকে খুনের হুমকি দেয় মুসা। ৩১ জানুয়ারি জেলার পুলিস কর্তাদের কাছে ডাকযোগে অভিযোগ জানান মহিলা। মহিলার স্বামী বলেন, ‘‌মুসাই তাঁদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সুযোগে তাঁর স্ত্রীকে সে ধর্ষণ করেছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top