অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ৩০ মে- বিমান থেকে নেমে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যদি মনে হয়, সরকারি কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থায় না থেকে কিছু অর্থ ব্যয় করে একটু বিলাসবহুল জায়গায় থাকবেন, তাহলে সোজা চলে আসতে হবে ‘‌পেড কোয়ারেন্টিন সেন্টার’–এ। দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ির ১১টি হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘‌পেড কোয়ারেন্টিন সেন্টার’‌ হিসেবে। হোটেলগুলি এককথায় ঝাঁ–চকচকে। মিলবে দু’‌বেলা প্রোটিনযুক্ত খাবার। তবে হোটেলকর্মী কিংবা হোটেলের ম্যানেজার কারও সংস্পর্শে আসা যাবে না। বাইরেও বেরোনো যাবে না। টানা ১৪ দিন হোটেলের ঘরেই থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর শিলিগুড়ির ১১টি হোটেলে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। বাইরের রাজ্য থেকে আসা কেউ চাইলেই এই হোটেলগুলিতে রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে পারবেন কোয়ারেন্টিনে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ শতাংশ ভাড়া কমানোর কথা বলা হয়েছে হোটেলগুলিকে। সরকারি নির্দেশিকায় শিলিগুড়ির ডলি ইন, হোটেল হেরিটেজ, দ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা লজ, হোটেল সেন্ট্রাল পার্ক, হোটেল স্বস্তিক, হোটেল স্বস্তিক রেসিডেন্সি, হোটেল হলিডন, হোটেল মাউন্টনভিউ, হোটেল সচিত্র, ম্যারিয়ট এবং আর্য হোটেলে এই পেড কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে হোটেল মালিকদের বলা হয়েছে, হোটেলকর্মীদের যাবতীয় সুরক্ষাবিধি মেনে কাজ করতে হবে। কোয়ারেন্টিনে আসা প্রত্যেকের ব্যাগ স্যানিটাইজ করতে হবে। সরকারের তরফে হোটেলকর্মীদের পিপিই কিট দেওয়া হবে দ্রুত। শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, ‘‌আমরা প্রশাসনের পাশে আছি, যাতে আগামী দিনে এই ভাইরাস অন্য কোথাও না ছড়ায়। তাই আমরা প্রত্যেক হোটেলকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যাঁরা এই রুমগুলিতে থাকবেন, তাঁদেরও নিয়ম মানতে হবে। হোটেলের রুমে থাকতে ভাল লাগছে না বলে একটু বাইরে বেরিয়ে আসি, এমনটা করা যাবে না। প্রত্যেক রুম একদিন অন্তর স্যানিটাইজ করা হবে। স্বাস্থ্যের দিকটা দেখে উপযুক্ত খাবার দেওয়া হবে। ভাড়া অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’‌
গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে সমস্ত হোটেল মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার রুম রয়েছে। বিগত দু–আড়াই মাস ধরে এই হোটেল রুমগুলি খালি পড়ে আছে। বিরাট অঙ্কের ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে হোটেল ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘‌লকডাউন চলাকালীন প্রতিদিন ৯–১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে হোটেল ব্যবসায়। এই ধাক্কা সামলাতে হোটেল ব্যবসায়ীদের প্রায় দু’বছর লেগে যাবে। তবুও আমরা আশাবাদী। ২০২০ সালে আমাদের লক্ষ্য করোনাকে প্রতিরোধ করা, যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি। ব্যবসার কথা না হয় পরের বছর থেকে ভাবব।’

এমন লজেই হচ্ছে কোয়ারেন্টিন সেন্টার। ছবি:‌ এএফপি

জনপ্রিয়

Back To Top