দীপেন গুপ্ত, পুরুলিয়া: কয়লা বোঝাই লরি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানার রঘুনাথপুর–ডিভিসির রাস্তার সালঞ্চি মোড়ের এলাকা। ঘটনার জেরে পরপর বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করার পাশাপাশি পুলিসকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ওই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি মৃতদেহ তুলতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপুরণের আশ্বাস মেলার পর পুলিসকে মৃতদেহ তুলতে দেওয়া হয়। তখন পুলিস মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম বংশী মণ্ডল (‌৩০),‌ তঁার স্ত্রী মহুয়া মণ্ডল (২৪)‌ ও তঁাদের ছয় মাসের ছেলে হীরণ মণ্ডল। তঁাদের বাড়ি নিতুড়িয়া থানার গুনিয়াড়া গ্রামপঞ্চায়েতের আস্তা গ্রামে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে একটি মোটর বাইকে করে স্ত্রী ও পুত্রসন্তানকে চাপিয়ে রঘুনাথপুরে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আসছিলেন বংশীবাবু। পথে ওই কয়লা বোঝাই লরিটি সালঞ্চি ব্রিজের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে চাপা পড়েন সকলে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সকলের। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। উত্তেজিত জনতা পথ অবরোধ করেন। পুলিস এসে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিসকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পুুলিস লাঠিচার্জ করে। কিন্তু কিছুতেই অবস্থার উন্নতি হয়নি। সেই সময় বেশ কিছু লরিতে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে আসেন রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক দেবময় চ্যাটার্জি, পুলিস আধিকারিক অভিজিৎ চৌধুরি–সহ আসপাশের পাঁচটি থানার পুলিস। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়। পুলিস সন্ধ্যা নাগাদ দেহগুলি উদ্ধার করে।‌

 লরিতে পিষ্ট হয়ে যাওয়া মহিলা। রঘুনাথপুরে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top