দীপেন গুপ্ত, পুরুলিয়া (‌শিমূলিয়া)‌: পুরুলিয়ার শিমূলিয়ায় অমিত শাহের পাল্টা সভা করে দেশ থেকে বিজেপি–কে হাঠানোর ডাক দিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেদিনের বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের কড়া ভাষায় জবাবও  দিলেন তাঁরা। বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতির ভুল–ভ্রান্তি তথ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরেন তৃণমূলের তিন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম ও শশী পাঁজা। 
গত বৃহস্পতিবার শিমূলিয়ার ফুটবল ময়দানে শহিদ স্মরণে সভা করে বিজেপি। প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপি–র সভাপতির কুৎসা–অপপ্রচার ও কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সেই ময়দানেই রবিবার পাল্টা সভার ডাক দেয় তৃণমূল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী ও জেলা নেতারা। বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‌আগে দিল্লি সামলা, পরে ভাববি বাংলা। দিন দুই আগে এখানে বিজেপি ঝাড়খণ্ডের মানুষকে নিয়ে সভা করেছিল। আর আজ আমরা সভা করলাম এই জেলার মানুষকে নিয়ে। দেখিয়ে দিলাম মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন, উন্নয়নের সঙ্গে আছেন।’‌ অমিত শাহের নাম না করে শুভেন্দু বলেন, ‘‌কেন্দ্র থেকে ওই নেতা এসে বলে গিয়েছেন এখানে নাকি দু’‌ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। সত্য না মিথ্যা আপনারাই বলুন। আমাদের রাজ্যে কোনও মহিলাকে দূর থেকে জল আনতে হয় না। ওদের রাজ্য নেতারা সব ভুল তথ্য দিয়েছেন। আর উনি সেগুলি বলেছেন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এসে গরিব মানুষদের জন্য দু’‌টাকা কিলো চাল–সহ নির্ভুল বিপিএল তালিকা তৈরি করেছেন।’‌ তিনি বলেন, ‘‌আজ জঙ্গলমহল শান্ত। মমতা ব্যানার্জির জন্য চারিদিকে উন্নয়ন হয়েছে। যে শান্তি ফিরিয়েছেন তাঁকে সরানোর স্বপ্ন দেখিস না। অত সহজে মমতাকে সরানো যাবে না। আগে দিল্লি সামলা তারপর বাংলার দিকে তাকাবি। আগে ১৯, তারপর ২১ এর নির্বাচন। আমরা বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই। আমরা বাংলা থেকে ৪২টা আসন দিয়ে সেটা পুরণ করব। আমাদের ধমকে–চমকে রাখা যাবে না।’‌
ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌পুরুলিয়ায় কী অবস্থা ছিল!‌ সন্ধের পর মানুষ বাইরে বের হতে পারত না। আজ মমতা ব্যানার্জির জন্য শান্তি ফিরেছে। কোথায় ছিলেন ওই নেতারা, যাঁরা আজ বড় বড় মিথ্যে কথা বলছেন। এখানে মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে মমতা ব্যানার্জি শান্তি ও উন্নয়ন এনেছেন।’‌ এদিনই পুরুলিয়ার পুরসভার জলসমস্যার সমাধানে  কাউন্সিলর ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।      
সভায় আরেক মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘‌যাঁরা ইতিহাস জানেন না তাঁদের মুখে বড় বড় কথা মানায় না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে যদি কারও সঙ্গে তুলনা করা যায় তাহলে তিনি হলেন বিধানচন্দ্র রায়। যিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও মানুষের জন্য কাজ করেন। বাকিরা শুধু মিথ্যে কথা বলেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top