রজত বসু:‌ ১৯৮২ দিল্লি এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। লাল–হলুদের ঘরের ছেলে ও প্রাক্তনী ভাস্কর গাঙ্গুলি আজ ‘‌আজকাল ডিজিটাল’‌ এর সঙ্গে পুজো নিয়ে আড্ডা মারলেন।
বরাবরই স্পষ্টবক্তা। সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালবাসেন। যখন জিজ্ঞাসা করলাম, ভাস্করদা পুজোয় এবার কী করছেন?‌ পরিকল্পনা কী?‌ করোহা আবহে সমাজকে কী বার্তা দিতে চান?‌ প্রথমেই বলে দিলেন, ‘‌আরে ভাই, কোনওদিনই পুজোয় কোথাও যাইনা। আর এবার তো প্রশ্নই নেই। বাড়িতে থাকব। খুব বেশি হলে একটু পাড়ায় বেরোব।’‌ সে অর্থে কোনও পরিকল্পনা পুজোয় কোনওদিনই করেন না। প্রাক্তন ফুটবলারদের মাঝে মাঝে আড্ডার আসর বসে। সেখানে মধ্যমণি থাকেন ভাস্করদা। এবার সেটাও হচ্ছে না। 
নিজে তো বেরোচ্ছেন না। যখন জিজ্ঞাসা করলাম, যারা পুজোয় ঘুরতে যাবেন তাঁদের কী বার্তা দিতে চান?‌ জবাবে যা বললেন, তাতে সেই স্পষ্টবক্তা ভাস্কর গাঙ্গুলি বেরিয়ে এল। বলে দিলেন, ‘‌চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞ। এতজন এত বার্তা দিয়েছেন যে নতুন করে আর কিচ্ছু বলার নেই।’‌ পরক্ষণেই জুড়ে দিলেন, ‘‌বাঙালি তো উৎসবপ্রিয়। আমি বেরোই না বেরোই। অন্যরা তো বেরোবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, যা শুনছি, পুজোর পর নাকি সংক্রমণ লাগামছাড়া হতে পারে। যা শুনে রীতিমতো আতঙ্কিত। তাছাড়া শুধু পুজো কেন!‌ শপিং করতে এখনও দোকান, কিংবা শপিং মলে যা ভিড় দেখছি। তাতে শিউরে উঠছি। আর বাস তো সেই আগের মতোই বাদুরঝোলা অবস্থায় ফিরে এসেছে। আমি শুধু সবাইকে সাবধান করতে পারি।’‌ 
পুজো আলোচনার পর যেই ফুটবল প্রসঙ্গে ঢুকতে চাইলাম। প্রিয় ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কথা শুরু করতে যাব। থামিয়ে দিয়ে নিজেই বলে দিলেন, ‘‌কোনও খবর আমি রাখি না। আইএসএলে কেমন টিম হল। কারা খেলবে। কে কোচ। কারা দল তৈরি করেছে। কোনওকিছুই আর ভাবায় না। তবে দল ভাল খেলুক। এটুকুই চাইব।’‌ পরক্ষণেই জুড়ে দিলেন, ‘‌কিছু তরুণ ফুটবলারকে নিলে বোধহয় ভাল করত।’‌ 
পুজো নিয়ে কথা বলার ফাঁকে প্রিয় ক্লাব নিয়ে কিছুটা অভিমানও ধরা পড়ল ভাস্কর গাঙ্গুলির গলায়।

জনপ্রিয়

Back To Top