গৌতম মণ্ডল,সাগর: বছর এগারো আগের কথা। মৃত্যুঞ্জনগরের বাসিন্দা প্রতিমা মণ্ডল তখন বছর চোদ্দো। অভাবী পরিবারের প্রতিমার বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখা হল। প্রতিমার খুব ইচ্ছা না থাকলেও বিয়েতে নারাজ হতে পারেননি। বিয়ে হয় তুষার খাটুয়ার সঙ্গে। তখন প্রতিমা ক্লাস নাইনে পড়তেন। বিয়ের পর আর পড়াশুনো সম্ভব হয়নি। দু’‌বছরের মাথায় প্রতিমা এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। 
সন্তান ও সংসার নিয়ে দিব্যি চলছিল। সংসারে কেটে যায় দশটা বছর। মেয়েও বড় হয়েছে। মেয়ে বছর নয়ের স্বস্তিকা ক্লাস ফাইভে পড়ে। গত বছর প্রতিমা আবার স্কুলে আসবেন বলে স্থির করেন। ভর্তি হন সাগরের মৃত্যুঞ্জয়নগর বালিকা বিদ্যালয়ের (‌উচ্চ মাধ্যমিক)‌ ক্লাস নাইনে। নাইন থেকে ক্লাস টেনে ওঠার সময় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি নম্বরও পেয়েছেন তিনি। এখন ক্লাস টেনে পড়েন স্থানীয় দক্ষিণ হারাধনপুরের বাসিন্দা বছর ছাব্বিশের প্রতিমা মণ্ডল খাটুয়া। মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন হয়েও গেছে। প্রতিমার স্বামী তুষার চাষাবাদ করেন। শ্বশুর, শাশুড়িও চাষবাস নিয়ে থাকেন। সংসারে ঘরকন্নার কাজের পাশাপাশি চাষবাসেও হাত লাগাতে হয় তাঁকে। তাই দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর রাতেই পড়াশুনো করেন প্রতিমা। স্কুলের অন্য সহপাঠীরা তাঁকে দিদি বলে ডাকেন। কিন্তু সকলের সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক প্রতিমার।
তাঁকে নিয়ে স্কুলের শিক্ষিকা প্রণতি জানা বেরাও উচ্ছ্বসিত। প্রতিমা বলেন, ‘পড়াশুনো করার ইচ্ছা ছোট থেকে। কিন্তু বিয়ের পর সংসারের চাপে সম্ভব হয়নি। পরে আবার স্কুলে আসছি। স্বামী–সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব উৎসাহ দেয়। ওঁদের উৎসাহের জন্য স্কুলে আসছি। ২০১৯ সালে মাধ্যমিকে বসব। আপাতত মাধ্যমিক পাশ করার কথা ভাবছি।’‌ শিক্ষিকা প্রণতি জানা বেরা বলেন, ‘প্রতিমা অন্যদের কাছে উদাহরণ। ইচ্ছা থাকলেও যে কোনও বয়সে পড়াশুনো করা যায়, সেটাই করে দেখাচ্ছেন প্রতিমা।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top