চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, কাটোয়া: দরজায়–‌দরজায় মূর্তি। পুজোর বালাই নেই। শুধুই ভোগ নিবেদন। মূর্তির নাম পৌষবুড়ি। পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষি অঞ্চলের বহু গ্রামে পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরেই কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, পূর্বস্থলী, কালনা, মন্তেশ্বরের বহু জায়গায় পৌষবুড়ি গড়ার চল।
কেমন মূর্তি সেই পৌষ–ঠাকরুণের? কীভাবেই বা তৈরি হয়? উপকরণ স্রেফ এঁটেল মাটি আর ইট। হাত–পা এলানো উদোম গায়ের পৌষবুড়িকে বানাতে কোনও মৃৎশিল্পীর দরকার হয় না। বাড়ির সদস্যরাই, বিশেষ করে খুদেরাই হাত লাগায়। তারাই শিল্পী। বলা যেতে পারে শিল্পের প্রথম পাঠটা গাঁ–গঞ্জের শিশুদের এই পৌষবুড়ি গড়েই হয়। বাড়ির বাইরের দরজার পাশে অপটু হাতে গড়া ছোট–বড় পৌষবুড়িকে ঘিরেই শীতের দুপুর থেকে রাত অবধি জমে ওঠে জটলা। বুড়ির শরীরে কোনও রং দেওয়া হয় না। থাকে না ন্যূনতম পোশাকও। এই শীতে বুড়ি উদোম গায়েই চিত হয়ে শুয়ে থাকেন। অনাবরণ, অনাভরণ পৌষবুড়িকে সাজানো হয় সরষে ফুল দিয়ে। সর্ব অঙ্গে গুঁজে দেওয়া হয় হলুদ সরষে ফুল। আর হাঁ–মুখে আটকে দেওয়া হয় পিঠেপুলি। খড়ের চাল বা বাড়ি লাগোয়া কোনও গাছের আস্তানা থেকে কাক–শালিখের দল তাক করে সেই পিঠেপুলিকে। সন্ধেবেলায় গৃহবধূরা শঁাখ বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে গোবরের পুতুল গড়ে তাতে আতপ চাল, সরষে ফুলে সাজিয়ে দরজায় দরজায় ছড়া আওড়ান, এসো পৌষ যেও না/বড় ঘরের মেঝেয় বোসো/জন্ম জন্ম থেকো। 

জনপ্রিয়

Back To Top