প্রদীপ দে,বহরমপুর: কলেজে ভর্তির প্রথম দিনেই পরিচয়। তারপর প্রেম। কিন্তু দুই পরিবারের কেউ মেনে নেয়নি। কারণ ছেলে হিন্দু, আর মেয়ে হল মুসলিম। কিন্তু আজিমগঞ্জের বাপন আর নশীপুরের রেহেনা সুলতানা পিছু হঠতে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ৮ বছর পর চার হাত এক হয়েছে। আর সেই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার হল বৌভাত। তবে এখানেও নজির স্থাপন করেছেন ওঁরা। বৌভাতে কোনও আত্মীয়–স্বজনকে ডেকে খাওয়ানো নয়, বাপন–রেহেনা ভরপেট খাইয়েছেন এক প্রাইমারি স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের। 
বাপন আজিমগঞ্জের ছেলে। নশীপুর পুবপাড়ার মেয়ে রেহেনার প্রথম পরিচয় ২০১১–তে জিয়াগঞ্জ কলেজে। দেখা হওয়ার কিছুদিন পর দু’‌জনেই প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে সম্পর্ক আরও গাঢ় হওয়ার পর ওঁরা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করবেন। কিন্তু বাপন বা রেহেনার বাড়ি এই বিয়ের ব্যাপারে আপত্তি জানায়। কিন্তু ওঁরা অনড় থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি আইন মেনে বিয়ে করেন। পুলিশ–প্রশাসন তাঁদের পাশে ছিল। বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমগঞ্জের গুড়িপাড়া প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে প্রস্তাব দেয়, ওদের বিয়ের বৌভাত স্কুলে করবে। খাওয়াবে খুদে পড়ুয়াদের। সানন্দে রাজি হন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শিখা রায় চক্রবর্তী। মেনুতে ছিল পোলাও, মাংস, দই, মিষ্টি। ছেলেমেয়েরা মনের আনন্দে চেটেপুটে খায়। স্কুলের শিক্ষকেরা উপহার হিসেবে বাপনকে দেন কোরান, আর রেহেনার হাতে তুলে দেন গীতা। এমন উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাপন–রেহেনা বললেন, ‘‌আমরা খুবই খুশি এমন উপহার পেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা আমরা দুই ভিন্ন ধর্মের মানুষ হয়েও এক হয়ে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে পেরেছি। শিশুদের খাওয়ানোর কারণ, ওরা নির্মল শিশু। কোন ধর্ম জানে না। জাত জানে না। বড়রা ও সব কুবুদ্ধি ওদের মনে ঢুকিয়ে দেয়। আমরা চাই ওদের পাশে দাঁড়াতে।’‌

বৌভাতে খুদে পড়ুয়াদের ভোজ। ছবি প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top