অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: গত বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। ঠিক একইভাবে এ বছরের পরিবেশ দিবসে রাজ্য ফের পদক্ষেপ করল। তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের। কলকাতায় সেন্ট্রাল পার্কে মঙ্গলবার বনমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, ‘‌এবার থেকে রাজ্যে বনদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট–বড়–মাঝারি সব ধরনের উদ্যান বা পার্কের ভেতর প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও প্লাস্টিক নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে।’‌ 
শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্ক হোক বা ফালাকাটার কুঞ্জনগর, কোচবিহারের রসিকবিল হোক বা মালদার আদিনা— সর্বত্র সোমবার পর্যন্ত অবাধে প্লাস্টিকজাত বস্তু নিয়ে পর্যটকেরা, স্থানীয়রা প্রবেশ করেছেন। বনমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে আর তা হবে না। বনদপ্তরের সব ক’টি ডিভিশনে নতুন নির্দেশিকার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বনমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমরা চাইলে প্লাস্টিকমুক্ত করতে অনেক বড় বড় লোকদেখানো ঘোষণা করতে পারি। তবে আমরা সেটা করব না। গতবছর কেবল সুন্দরবনকে আমরা প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা করেছিলাম। সুন্দরবনে আমরা সফল। ধাপে ধাপে আমরা এগোচ্ছি। এ বছর সব উদ্যানকে প্লাস্টিকমুক্ত করলাম। আগামী বছর পরিবেশ দিবসের আগে আমাদের লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের সব ক’টি জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা করা। আজ থেকে আমরা সেই পরিকল্পনাও নিয়েছি। জানি, কাজটা কঠিন। প্রথমে আমরা প্রচার অভিযান করব। শেষে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে প্লাস্টিককে।’‌
পরিবেশ দিবসে এ বছরের থিম ‘প্লাস্টিকমুক্ত বিশ্ব’। সেদিক থেকে বনমন্ত্রীর ঘোষণায় যথেষ্ট খুশি পরিবেশপ্রেমীরা। উত্তরবঙ্গের পরিচিত প্রকৃতিপ্রেমিক জীবনকৃষ্ণ রায় বনমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলেন, ‘‌মানুষের বদ অভ্যাস, কু–অভ্যাস আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে রাজ্য সরকারকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে আরও কড়া পদক্ষেপ করতেই হবে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া, গরুমারা— তিনটি এলাকায় আমরা সার্ভে করেছিলাম। তিনটি জঙ্গল থেকে পাওয়া হাতিদের মলের নমুনায় প্লাস্টিক মিলেছিল। এখন সময় এসে গেছে, দ্রুত উত্তরবঙ্গের সব জঙ্গল প্লাস্টিকমুক্ত করা।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top