Piyali Basak: ১২ লক্ষ টাকা না মেটালে এভারেস্ট জয়ের শংসাপত্র পাবেন না পিয়ালী

মিল্টন সেন, হুগলি, ২৩ মে: পিছু ছাড়েনি পাহাড়প্রমাণ আর্থিক বাধা।

ক্লাব, সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী সকলের সাহায্যে মিটেছে অভিযানের অনেকটা খরচ। তবে এখনও বাকি প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। অবিলম্বে তা জোগাতে না পারলে মিলবে না শংসাপত্র। তাহলে কি পিয়ালীর এই এভারেস্ট অভিযান সম্পূর্ণ হয়ে এসেও অসম্পূর্ণই থেকে যাবে? চিন্তায় ঘুম ছুটেছে বসাক পরিবারের। সোমবার এমনই আক্ষেপের সুর শোনা গেল সদ্য পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গজয়ী পিয়ালী বসাকের মা স্বপ্না বসাকের গলায়। এদিন তিনি বলেছেন, মেয়ের সাফল্যে তিনি খুবই খুশি। সকলে মিলে পাশে না দাঁড়ালে তাঁর মেয়ের পক্ষে এই অসাধ্য সাধন কখনওই সম্ভব হয়ে উঠত না। তবে এখনও অনেক টাকাই বাকি রয়েছে। 
শেরপার বোনাস দিতে হবে। চুক্তি রয়েছে, কাঠমান্ডুতে থাকাকালীন নেপালের ওই আয়োজক সংস্থাকে যাবতীয় টাকা না মেটানো হলে পিয়ালী শংসাপত্র পাবে না। এখনও অনেকেই সাহায্য করছেন, সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা হচ্ছে। বাকি থেকে যাচ্ছে ১২ লক্ষ। যা জোগাড় করার জন্য তিনি ব্যাঙ্কের সঙ্গে বাড়ি বন্ধক দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বন্ধকী প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এই অল্প সময়ে তা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তবু তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন: বুদ্ধের দেখানো পথে চলা উচিত গোটা বিশ্বের, জাপানে বললেন মোদি 


স্বপ্না দেবী আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে এভারেস্টের ৮৪৩০ মিটার পর্যন্ত উঠে ফিরতে হয়েছিল পিয়ালীকে। এবারে তাঁর অদম্য ইচ্ছে আর দক্ষতা আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন পিয়ালী। গতবার এভারেস্ট অভিযানের সময় ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছিল পিয়ালীকে। সেই টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তাই মা বাড়ি বন্ধক দিয়ে বাকি টাকা জোগাড় করার কথা ভাবছেন।
স্বপ্না দেবী ধন্যবাদ জানিয়েছেন সকলকেই। ধন্যবাদ জানিয়েছেন রোটারি ক্লাবকে, তাঁরা ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মোহিত নন্দী, প্রাক্তন মেয়র অমিয় দাস, বর্তমান মেয়র রাম চক্রবর্তী, নাট্যব্যক্তিত্ব তুষার ভট্টাচার্য, কল্যাণ চক্রবর্তী সহ অনেকেই। সংস্থাগতভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মর্টন ডেয়ারি, চন্দননগর পুরনিগম, চন্দননগর সবুজের অভিযান, সংবেদ সহ আরও অনেক সংস্থা। পিয়ালীকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন তাঁর ট্রেনার অপূর্ব চক্রবর্তী ওরফে মিন্টেদা। এছাড়াও গিরিদূত সংস্থার তরফে পাহাড়ে ওঠার যাবতীয় সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে পিয়ালীকে। স্বপ্না দেবী বলেন, এছাড়াও পিয়ালীর স্কুল, পাড়াপড়শি, স্থানীয় চিকিৎসক থেকে সকলেই পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্য করেছেন। সকলের আশীর্বাদ সহযোগিতা ছাড়া এটা কোনও ভাবেই সম্ভব ছিল না, বারবার বলছেন পরিবারের সদস্যরা। এবার ধারদেনা শোধ করতে পারলে মেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাবে। বোন তমালি বসাক জানিয়েছেন, তাঁর দিদি এভারেস্ট থেকে নেমে আপাতত ৪ নম্বর ক্যাম্পে রয়েছেন। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ২ নম্বর ক্যাম্পে নেমে আসবেন। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর ফের নীচে নামার প্রস্তুতি নেবেন।  

ছবি: পার্থ রাহা
 

আকর্ষণীয় খবর